👁 211 Views

কোটি টাকার রাজস্ব, নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: পলাশবাড়ী কালিবাড়ী বাজার এখন ময়লার ভাগাড়

পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার অন্যতম ব্যস্ততম বাণিজ্যিক কেন্দ্র কালিবাড়ী বাজার এখন যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বাজারের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে-ঘাটে জমে থাকা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এতে ব্যবসায়ী, পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখর এ বাজার থেকে পৌরসভার বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও নেই কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বাজারে নির্ধারিত ময়লা ফেলার স্থান না থাকায় যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে।
ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, “পৌর কর না দিলে সাধারণ নাগরিক সনদ পর্যন্ত পাওয়া যায় না। অথচ আমরা পৌরসভার মৌলিক সেবাই পাচ্ছি না। বাজার থেকে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও এখনো ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। বর্তমান পৌর প্রশাসক নিয়মিত বাজারে আসেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করেন। বিষয়টি তাঁর চোখ এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়। তারপরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
মেসার্স মওলা স্টোরের স্বত্বাধিকারী গোলাম মওলা বলেন, “আমার দোকানের সামনেই প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলা হয়। আবর্জনা জমে রাস্তা পর্যন্ত দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই।”
মেসার্স তামিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “কালিবাড়ী মন্দিরের প্রধান ফটকের সামনে কীভাবে ময়লার স্তূপ তৈরি হয়? মন্দিরের প্রাচীর ঘেঁষে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রস্রাব করছে। এটি ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধেরও পরিপন্থী। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরা ব্যবসায়ীরা পৌর কর প্রদান বন্ধসহ পৌর প্রশাসকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
পথচারী শাহ আলম সরকার বলেন, “দুর্গন্ধের কারণে এই সড়ক দিয়ে চলাচল করাই কষ্টকর। স্কুলগামী সন্তানদের নিয়ে নাক চেপে চলতে হয়। দুর্গন্ধে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক কর্মজীবী নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পৌরসভার সামনেই যদি এমন ময়লার ভাগাড় তৈরি হতো, তাহলে কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারত সাধারণ মানুষ কতটা দুর্ভোগে আছে।”
এ বিষয়ে পলাশবাড়ী পৌরসভার প্রকৌশলী মুরতুজা বলেন, “ময়লা ফেলার জন্য উপযুক্ত জায়গা ক্রয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। স্থান নির্ধারণের পর স্থায়ীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং বাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *