👁 892 Views

শিশুদের ভবিষ্যতে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যখাতে জোর দেওয়ার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের  

ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ অংশ নিয়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যখাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পত্নী ডা. জুবাইদা রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সম্মেলনে প্রদত্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শিশুদের জীবন ও বিকাশের মধ্য দিয়ে। আজ আমরা তাদের জন্য যে শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সুযোগ সৃষ্টি করছি, তা-ই আগামী দিনের রাষ্ট্র গঠনে প্রভাব ফেলবে।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে শিশুদের কল্যাণে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের এই প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বাংলাদেশের সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যতমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করছে।
একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি শিশুদের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া জরুরি, বিশেষ করে জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই।’  জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন ও ‘সুরভি’ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততা তার শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও কমিউনিটি কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করেছে বলেও জানান তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষাব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও সম্পদের অভাব রয়েছে। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট ও কম্পিউটার সরবরাহ, ডিজিটাল কারিকুলাম প্রবর্তন এবং মাল্টিমিডিয়া-ভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ চালুর মাধ্যমে শিক্ষাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তি, বিশেষ করে এড-টেক, শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’ একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।
নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় মানবাধিকার অগ্রগতি এবং মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গার্মেন্টস শিল্পের ভিত্তি স্থাপনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে লাখো নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিবারকে শক্তিশালী করেছে এবং শিশুদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করেছে।
সম্মেলনে তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি, দক্ষ শিক্ষক গড়ে তোলা, অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’
ভাষণের শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘জ্ঞান ভাগাভাগি, পারস্পরিক শিক্ষা এবং সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা শুধু আমাদের দেশ নয়, পুরো বিশ্বের শিশুদের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করতে পারি।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার বক্তব্য শেষ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *