
এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট। লমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সাত বছর বয়সী শিশু নন্দিনীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, এমপি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১১টায় তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং গভীর সমবেদনা জানান।
শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন যারা মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে শান্ত ও ধৈর্য ধারণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এ সময় ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রোকনউদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এক এম মমিনুল হক, জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
নিহত নন্দিনীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাত বছর বয়সী নন্দিনী নিখোঁজ হওয়ার পর ব্যাপক খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং মামলার তদন্ত শুরু করে। আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে প্রধান আসামি হত্যার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নন্দিনীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে এখনও শোকাহত ফলিমারী গ্রামসহ পুরো আদিতমারী উপজেলা। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ এক কণ্ঠে শিশু নন্দিনী হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন।