👁 149 Views

জুড়ীতে নদীভাঙনে হুমকির মুখে বসতভিটা, আতঙ্কে কয়েকটি পরিবার

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা : বসতভিটা মানেই মাথা গোঁজার ঠাঁই, পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়। সেই আশ্রয়ই যখন নদীর ভাঙনে ধীরে ধীরে বিলীন হওয়ার পথে, তখন উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটে একটি পরিবারের। মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে জুড়ী নদীর ভাঙনে এমনই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে কয়েকটি পরিবার। নদীর অব্যাহত ভাঙনে তাদের বসতভিটা ও ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে আব্দুল মালিকের রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইলিয়াস আলী, ইসরাব আলী, ইয়াজ আলী, আয়াজ আলী ও আবুল কালামের বসতভিটার অংশও নদীভাঙনের কবলে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা নিজেদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু রক্ষা করা। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে বসতভিটা হারিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন, কীভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাবেন—এমন নানা শঙ্কা তাদের তাড়া করে ফিরছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা দরিদ্র মানুষ। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বসতভিটায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু নদীভাঙনে বাড়ির জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বসতভিটার আরও অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ অবস্থায় নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা–জুড়ী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।উনারা দাবি করে বলেন আমাদের সংসদ সদস্য সরেজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে মানুষের দুর্ভোগ দেখবেন এবং ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হবেন।
একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নদীভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে পরিবারগুলো অন্তত নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
গৌরীপুরের এসব পরিবারের এখন একটাই আকুতি—নদীভাঙন থেকে রক্ষা পাক তাদের শেষ আশ্রয়স্থল। সময় থাকতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে হয়তো রক্ষা পাবে তাদের বসতভিটা, নিরাপদ থাকবে পরিবারের সদস্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এগিয়ে আসবে—এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন নদীভাঙনে আতঙ্কিত পরিবারগুলো।