
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে দূরের পাহাড় কাছে যেতে দেয় না—সীমান্তের আইনি বেড়াজাল থামিয়ে দেয় পথ। অথচ ফেরার সময়ও মন ফিরতে চায় না; প্রকৃতির মায়া যেন পিছু ছাড়ে না।
সাদা পাথরের বুক চিরে ধেয়ে আসা স্বচ্ছ শীতল জলরাশি, পাথর-বালুচরে হাঁটা আর প্রকৃতির ছবি ধারণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অপার প্রশান্তি।
কিন্তু এই সৌন্দর্যের মাঝেও রয়েছে প্রকৃতির নিজস্ব শক্তি। স্রোত, পিচ্ছিল পাথর কিংবা হঠাৎ গভীর পানি—অসতর্ক মুহূর্তে আনন্দের ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে স্বজন হারানোর বেদনা।
সাদাপাথরের এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে কয়েকটি বেদনাদায়ক মৃত্যুর স্মৃতিও। পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত সাদাপাথর এলাকায় পানিতে ডুবে অন্তত চার পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে।
আগস্ট ২০২৩। চার বন্ধু মিলে সাদাপাথরে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে মারা যান জয় গাইন (২১)। তারা ঢাকার মগবাজার থেকে সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। জয় সাতক্ষীরার গোবিনাথপুর গ্রামের রানা গাইনের ছেলে।
৯ জুন ২০২৫। দুপুর ২টার দিকে সাদাপাথর এলাকায় পানিতে ডুবে মারা যায় ইমন (১৬) নামে এক কিশোর পর্যটক।
২ জুলাই ২০২৬। সাদাপাথরে পানিতে নেমে নিখোঁজ হন চিকিৎসক ডা. সুব্রতা সাহা বিকাশ (৩৩)। পরদিন ৩ জুলাই ধলাই নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
১৫ আগস্ট ২০২৬। সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে এসে পানিতে গোসল করতে নেমে মারা যান মাইনুল ইসলাম রিফাত (২১)। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
চার ঘটনায় চারটি প্রাণ ঝরে গেলেও সাদাপাথরে পানিতে ডুবে দুর্ঘটনার ঘটনা আরও রয়েছে। পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও পারিবারিক সম্মতিতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কয়েকটি মরদেহ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তাই পানিতে নামার আগে নিজের কথা ভাবুন, পাশে থাকা মানুষটির কথাও ভাবুন। শিশু-কিশোরদের প্রতি রাখুন বাড়তি নজর। স্রোত বেশি থাকলে পানিতে নামা থেকে বিরত থাকুন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলুন।
ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর শুধু সৌন্দর্য দেখার জায়গা নয়, আপনজনকে নিরাপদে নিয়ে ফেরারও প্রতিশ্রুতি।
কারণ ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি হলো—সবাই মিলে আনন্দ করা, আর দিন শেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই নিরাপদে বাড়ি ফেরা।
ছবি আবার তোলা যায়, ভ্রমণ আবার করা যায়; কিন্তু আপনজনকে হারানোর শূন্যতা পূরণ হয় না।
সাদা পাথরে আসুন, প্রকৃতির মায়া উপভোগ করুন—
স্মৃতি নিয়ে ফিরুন, প্রিয় মানুষগুলোকে নিরাপদে সঙ্গে নিয়ে।
(সাংবাদিক /পরিবেশ ,মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠক)
E-mail –smhsazadj@gmail.com
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬