👁 289 Views

শার্শায় বিলাসী রঙিন মাছ চাষে সাফল্য,ভাগ্য বদলে তরুণ উদ্যোক্তা মাসুমের

আব্দুল মান্নান শার্শা (যশোর) থেকে ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার গ্রাম পর্যায়ে তরুণ উদ্যোক্তা মাসুম বিল্লাহ’র ভাগ্য বদলে দিয়েছে বিলাসী রঙিন মাসের চাষ। শখের বশে শুরু করা রঙিন মাছ (অরনামেন্টাল ফিশ) চাষ আজ তাকে এনে দিয়েছে আর্থিক সচ্ছলতা ও আত্মনির্ভরশীলতার স্বীকৃতি। তার এই সাফল্যে এলাকার বেকার যুবকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো। উপজেলার রাজাপুর গ্রামে সরজমিনে যেয়ে দেখা যায়, এম এস বি এ্যাকুরিয়াম ফিস এন্ড হ্যাচারী নামে মাসুম তার নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় গড়ে তুলেছেন রঙিন মাছের খামার। সেখানে ছোট বড় মিলে শৈল্পিক উপায়ে মোট ৫০ টি পাকা হাউস ও পুকুর তৈরী করেছেন তিনি। হাউস গুলোতে গাপ্পি, মল্লি, গোল্ডফিশ এবং কই কার্পের মতো নান্দনিক ও আকর্ষণীয় প্রজাতির ৮/১০ প্রকার বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ করছেন তিনি। স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও তার খামারের মাছের অর্ডার আসছে। উদ্যোক্তা মাসুম বিল্লাহ জানান, শখের বসে ২০১৮ সালে ইউটিউবের ভিডিও দেখে একটি হাউস বানিয়ে মাত্র ১৬ শত টাকা দিয়ে শুরু করেন এই বিলাসী রঙিন মাছের চাষ। বর্তমানে তার ৫০টির ও বেশী হাউস ও পুকুর রয়েছে। তিনি আরো জানান শুরুটা সহজ ছিল না। পুঁজির স্বল্পতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞানের অভাবের কারণে প্রথম দিকে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবে ইউটিউব ও বিভিন্ন মৎস্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তিনি মাছের প্রজনন ও রোগ বালাই দমনের কৌশল রপ্ত করেন। স্থানীয় মৎস্যচাষী ও সচেতন মহল বলছেন, শার্শার মতো জনবহুল এলাকায় প্রথাগত চাষাবাদের বাইরে গিয়ে এ ধরনের আধুনিক ও সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। মাসুমের এই সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে এলাকার অনেক বেকার যুবক ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি রঙিন মাছের খামার তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা সিনিয়র মৎস অফিসার পলাশ বালা জানান, এম এস বি এ্যকুরিয়াম ফিস এন্ড হ্যাসরীর মাসুম একজন সফল উদ্যোক্তা। শুরু থেকে তাকে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পরামর্শ সহ বিভিন্ন সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের সাহায্য সহযোগিতা বা পরামর্শের জন্য উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর তার পাশে থাকবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *