👁 221 Views

তালোড়ায় রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগে কৃষকের আদা খেত ধ্বংস, প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি।।

​

নিজস্ব প্রতিবেদক তালোড়া ও দুপচাঁচিয়াঃ
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালোড়া পৌর এলাকার পগুইল গ্রামের ‘বুড়া সাত তলা’ নামক স্থানে রাতের আঁধারে জঘন্য এক নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া বিষের প্রয়োগে তালোড়া বন্দর নগর কবিতা সংসদের অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও উদীয়মান কৃষক মোঃ আব্দুল মজিদ হারুন-এর ২৫ শতাংশ জমির সম্পূর্ণ আদা খেত পুড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
​ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৃষক মোঃ আব্দুল মজিদ হারুন অত্যন্ত যত্নের সাথে পগুইল গ্রামের ‘বুড়া সাত তলা’ নামক মাঠে তাঁর ২৫ শতাংশ জমিতে আদা চাষ করেছিলেন। খেতের আদা গাছগুলোও বেশ ভালো ও সবুজ ছিল। গত ২৪/১০/২০২৬ তারিখে রাতের কোনো এক সময়ে শত্রুতাবশত অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা ওই জমিতে ক্ষতিকর বিষ বা আগাছানাশক স্প্রে করে।
​পরদিন সকালে কৃষক হারুন ভাই জমিতে গিয়ে দেখেন যে, তাঁর পুরো খেতের আদা গাছগুলো সম্পূর্ণ হলুদ হয়ে শুকিয়ে মারা যাচ্ছে এবং পচে নষ্ট হয়ে গেছে। রাতের আঁধারে এই পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের ফলে তাঁর সারা বছরের পরিশ্রম ও স্বপ্ন মুহূর্তে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। এতে বীজ, সার, পরিচর্যা ও উৎপাদিত ফসলের আনুমানিক বাজারমূল্য মিলিয়ে তাঁর প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
​ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের প্রতিক্রিয়া:
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক মোঃ আব্দুল মজিদ হারুন জানান, “আমি একজন সাধারণ মানুষ ও চাষী। তালোড়া বন্দর নগর কবিতা সংসদের সাথে যুক্ত থেকে লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। কারও সাথে আমার কোনো শত্রুতা নেই। যারা রাতের আঁধারে আমার এই খেতের ফসল এভাবে বিষ দিয়ে পুড়িয়ে মারল, তারা চরম অমানুষ ও প্রকৃতির শত্রু। আমি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং এর সাথে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”স্থানীয়দের দাবি:
এলাকার সচেতন মহল ও কৃষকরা এই কাপুরুষোচিত ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রাতের আঁধারে কৃষকের ফসলের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাছে স্থানীয়দের জোর দাবি, দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হোক।