👁 243 Views

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি।।  পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার দৈনিক যায়যায় দিন এর প্রতিনিধি মোঃ রাকিব হোসাইন ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার আত্মহত্যা করেছেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় ও সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুকে আইডিতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসের জীবনের সংগ্রাম, পারিবারিব অবহেলা, হতাশা ও মানসিক ক্লান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। স্ট্যাটাসে তিনি লেখে-একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে, যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত। ‘‘এছাড়া মৃত্যুর পর মায়ের পাশে দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং জীবনের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের শেষ বক্তব্য রেখে যান।
সাংবাদিক রাকিবের আবেগঘন পোষ্টেহুবহু তুলে ধরা হলো: ‘আসসালামু আলাইকুম একটা মানুষ জীবনের কত যুদ্ধ করতে পারে যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত। আপন আপন বলা মানুষগুলো ভালো থাকুক। আফসোস এটাই যে রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো আমাকে চিনতে পারলো না। দুনিয়ার মায়া এক দিনে বা অল্প কষ্টে কেউ ছাড়েনা।
আমার মৃত্যুর পরে আমাকে যেন আমার মায়ের পাশে দাফন করা হয়। শাজাহান মেলকারের পরিবারের কোন লোক যেন আমার মুখ না দেখে, যদি কেউ দেখে বা কেউ দেখায় তার প্রতি আমার কেয়ামত পর্যন্ত দাবী থাকবে। দশমিনা ফার্মেসীর আমি অংশীদার দোকানে খাতায় আমি কতো টাকা দিয়েছি তার হিসাব লেখা আছে, গৌতম যেন কোন ভাবেই হয়রানি না হয়, গৌতম খুব ভালো ছেলে একযুগে এমন একটা ছেলে হয়না। গৌতমের কাছ থেকে আমার ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদাউস (এলো) হিসেব নিবে, গৌতম যা বলবে তাই, এর বাইরে যেন কিছু না হয় এাঁ আমার দাবী। ছোট বেলা থেকেই পরিবার ছাড়া বড়ো হয়েছি, রক্তের মানুষ গুলোর থেকে কখনো কিছু পাইনি, শুধু অবহেলা ছাড়া। জীবনে যাদের কাছ থেকে পেয়েছি তাদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই, আমি আজ যাবার সময় তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারো প্রতি কোন অভিযোগ নেই আমার। তবে অনেক স্বপ্ন ছিলল, বাঁচার ইচ্ছে ছিল তা আর হলো না। চলার পথে যদি কেউ আমার আচারনে কষ্ট পেয়ে থাকেন আমাকে মাফ করে দিবেন পরিশেষে দুঃখের ঘরে জম্ম নেয়া কষ্টের সাথে বেড়ে ওঠা ছেলেটার জীবনের সমাপ্তি ঘটে”।
এবিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, শনিবার দিবাগত ভোর ৬টার দিকে রাকিব বিষাক্ত ট্যাবলেট (গ্যাস ট্যাবলেট) সেবন করেন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। তবে বরিশাল নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ওসি আরো জানান, প্রায় বিশ বছর আগে রাকিবের মা -ও আত্মহত্যা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের বিষন্নতা ও মানসিক চাপে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন।
পরিবার ও এলাকাবাসীর অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রোববার সকাল ১০টায় দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা এবং গলাচিপা উপজেলা চরবিশ^াস ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তার মায়ের কবরের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হবে বলে নিহতের পরিবার সূত্রে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *