
নওগাঁ প্রতিনিধি: ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এর উত্তোলনকৃত ৩৪ লাখ টাকা লুণ্ঠণ ও ছিনতাই ঘটনায় ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা পুলিশ (ডিবি)।
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর ২ ঋণ কর্মকর্তা ও অলংকারদিঘী গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন (২৭) ও সিমলাদার গ্রামের আবদুল ওয়াহাবের ছেলে আবু তালেব (২৫),
কর্মচারী ও অলংকারদিঘী গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে রাসেল বাবু (২২), রাণীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে আসামি স্বপন (২৮) ও একই গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে হাসান আলী (২৫) এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা সেই নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলসহ মালিক রাব্বি আলী(২৬)।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ৩৪ লাখ টাকা লুণ্ঠন বিষয়ে এ পর্যন্ত ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার, ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা একটি মোটর সাইকেল, একটি আইফোন সহ সাতটি মোবাইল ও ছিনতাইকৃত ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত ও ছিনতাইকৃত সব টাকা উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত আছে।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে নওগাঁ জেলা পুলিশের দুর্দান্ত অভিযানে রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং এর ৩৪ লক্ষ টাকা ছিনতাই এর ঘটনায় ৬ জন আসামি গ্রেফতার, ১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, ০৭টি মোবাইল জব্দ করা হয়েছে
গত ০৬-১০-২৬ তারিখ দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকের দুই কর্মচারী ক্যাশিয়ার ভিকটিম নাজমুল এবং অফিস সহায়ক মো রাসেল আদিমদিঘী রেল গেট হতে তার মালিক ফিরোজ হোসেন এর নিকট ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে আবাদ পুকুর বাজারে অফিসের উদ্দেশ্যে মোটর সাইকেল যোগে রওনা দেয়। ১২টা ৫০ মিনিটের সময় পথিমধ্যে রানীনগর উপজেলার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ার সামনে ওই দুই কর্মচারী পৌঁছালে পিছন থেকে এক মোটরসাইকেল তাঁদের পথরোধ করে এবং লোহার স্টিক দিয়ে মারধোর করে ৩৪ লাখ টাকা লুণ্ঠন ও ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এ সংবাদ জানা মাত্র অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত ঘটনাস্থলে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে পুলিশ সুপার নিজের তত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে নওগাঁ থেকে এক চৌকস টীমসহ ঘটনা স্থলে গিয়ে আসামি সনাক্ত ও আসামি গ্রেপ্তার লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়।
ওই দিনই রাত ১১টার মধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) চৌকস টীম ও রানীনগর থানার এক টীম বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রাথমিক ক্ল্যু উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক পর্যায়ে দুই জন আসামি সনাক্ত করে। ওইদিন রাতেই জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রানীনগর থানা অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যাবহৃত রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেলটি জব্দ করে এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৭ অক্টোবর পরের দিন রাতে পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁ এর একটা স্পেশাল টীম জয়পুর হাট জেলার আক্কেল পুর ও দিনাজপুর জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। সর্বশেষ দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত রাণীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আবদুল জব্বারের ছেলে আসামি স্বপন (২৮) ও একই গ্রামের পিতা ওয়াজেদ আলীর ছেলে হাসান আলী (২৫) কে গ্রেপ্তার করে তাদের হেফাজত থেকে ডাকাতির ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্য মতে বৃহস্পতিবার ( ৮ অক্টোবর) রানীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর দুই ঋণ কর্মকর্তা ও এক অফিফ সহায়ক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসা বাদে জানা যায়, আসামি ইসলামী ব্যাংক এজেন্টের রাসেল, সুজন ও আবু তালেব আসামিগন বেশ কয়েক মাস যাবত মোবাইলে অনলাইন জুয়া খেলে প্রায় ৭/৮ লাখ টাকা হেরে যায়। তারা বিভিন্ন গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়া খেলায় ব্যবহার করে হেরে যায়। তখন তারা তিন জন, গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী স্বপন, হাসান সহ কয়েকজন এজেন্ট ব্যাংকির এর মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তারা দীর্ঘ একমাস যাবত এ পরিকল্পনা করতে থাকে।
ঘটনার দিন আসামি পিয়ন কাম অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ব্যাংকের ক্যাশিয়ার নাজমুল কে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে টাকা নিতে যায়। টাকা নিয়ে অফিসের দিকে যাবার সময় আসামি রাসেল বাবু; স্বপন এবং হাসান সহ পলাতক আসামিদের তাদের অবস্থান বারবার জানাতে থাকে।
এক সময় ঘটনাস্থলে টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে নাজমুল ও আসামি রাসেল পৌছালে স্বপন এবং হাসান সহ পলাতক কয়েকজন আসামি পথরোধ করে মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এর মধ্যে ক্যাশিয়ার নাজমুল ছিল ভিকটিম। তাকে লোহার পাইপ দিয়ে বেদম মারধোর করা হয়েছে। অন্যদিকে টাকা বহনকারী অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ছিল সাজানো এবং মিথ্যা ভিকটিম।
এদিকে ছিনতাইকৃত ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকের তিনজনকে ১০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য সকল ছিনতাইকারীরা বাকি টাকা নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ছিনতাইকারী স্বপন এবং হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লাখ করে তিন লাখ টাকা দেয়া হয়। সেই সাথে তাদেরকে নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। পরে গা ঢাকা দিতে ছিনতাইকারী হাসান ও স্বপন জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুর পালিয়ে যায়।