👁 275 Views

ভাদ্রে মাসে বাতাসে তালের ঘ্রাণ

 

ঘোড়ঘাট প্রতিনিধি :-
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভাদ্র মাসে বাজারে এসেছে পাকা তাল। তালের সুবাসে মৌ মৌ করছে বাজার। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে তালের পিঠা। অনেকে পাকা তালের মিষ্টি ঘন রস কাঁচাই খান, আবার অনেকে সিদ্ধ করে তা দিয়ে পিঠা বা সুস্বাদু খাবার বানিয়ে খান। এ ছাড়া তালের বীজের শাঁস অনেকের প্রিয়।

দুই তিন মাস আগে বাজারে কাঁচা তালের রসালো শাঁস রসনা মিটিয়েছে। এখন শহর-গ্রাম সবখানে তালের রস দিয়ে নানা রকমের পিঠা, পায়েস, পাকোয়ান, তালমিছরি, তাল মাখনা, তালের বড়াসহ রকমারি খাবার তৈরি হচ্ছে। ভাদ্রের বাতাসে মিশে আছে পাকা তালের মিষ্টি ঘ্রাণ। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত মৌসুমি ফল তাল এখন শহর ও গ্রামের হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে তাল দেখলেই অনেকের মনে পড়ে যায় শৈশবের দিন, পাকা তালের পিঠা-পুলি, তালের বড়া, পায়েস আর মিষ্টি রসের স্বাদ।

দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই কমবেশি তালগাছ দেখা যায়। কি সমতল, কি পাহাড় কিংবা হাওর-বাঁওড় সবখানেই দেখা যায়- ‘তাল গাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে।’ আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে সারা দেশে হাজারো গাছের মধ্যে তালগাছ সারি দেখা যেত। কালের আবর্তে তালগাছ বর্তমানে অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

বৃক্ষ রোপণ অভিযানকালে আমরা অন্যান্য গাছ লাগালেও তালগাছকে এড়িয়ে যাই। অপরিকল্পিত ভাবে তালগাছ কাটা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন আর মাঠের ধারে ও গেঁয়ো পথের পাশে সারি সারি তালগাছ চোখে পড়ে না। চোখে পড়ে না তালগাছে বাবুই পাখির বাসা বাঁধার মনকাড়া সেই দৃশ্য।সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এলেও তালের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো কমেনি।

উপজেলায় বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে পাকা তাল বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। বাজারে তালের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাকা তাল বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে প্রায় ২০ থেকে ৫০ টাকা দরে। তালের পাশাপাশি তালের শাঁসও মৌসুমে ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

তাল বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, আগে গ্রামের রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির উঠানে সহজেই তাল পাওয়া যেত। এখন তালগাছ কমে যাওয়ায় আগের মতো তাল পাওয়া যায় না। ফলে বাজারে তালের দামও বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে তাল বিক্রি করে মৌসুমি আয় করছেন অনেক ছোট ব্যবসায়ী।

ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, তাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও স্মৃতি। পাকা তাল দিয়ে তৈরি তালের বড়া, পিঠা, পায়েসসহ বিভিন্ন খাবারের স্বাদ এখনো মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়।

তালপাতার ব্যবহার বিভিন্ন রকম। হাত পাখার কথা তো বলাই বাহুল্য। এ দিয়ে টুপি, ঝুড়ি, চাটাই, মাদুর, বেড়াসহ নানা খেলনা তৈরি হয়। কাঠও দারুণ শক্ত এবং আঁশযুক্ত। সহজে পঁচে না বা নষ্ট হয় না। ছোট ডিঙি নৌকা তো হয়ই, ছাতির বাঁট, লাঠি, বাক্স, পাপোশ, কয়ার ইত্যাদি জিনিসও তৈরি হয় ওই তালগাছ থেকে।

তবে তালগাছ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী ফলের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তালগাছ ফল দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন করে তালবীজ ও চারা রোপণের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
ভাদ্রে মাসে বাতাসে তালের ঘ্রাণ

ঘোড়ঘাট প্রতিনিধি :-
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভাদ্র মাসে বাজারে এসেছে পাকা তাল। তালের সুবাসে মৌ মৌ করছে বাজার। ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে তালের পিঠা। অনেকে পাকা তালের মিষ্টি ঘন রস কাঁচাই খান, আবার অনেকে সিদ্ধ করে তা দিয়ে পিঠা বা সুস্বাদু খাবার বানিয়ে খান। এ ছাড়া তালের বীজের শাঁস অনেকের প্রিয়।

দুই তিন মাস আগে বাজারে কাঁচা তালের রসালো শাঁস রসনা মিটিয়েছে। এখন শহর-গ্রাম সবখানে তালের রস দিয়ে নানা রকমের পিঠা, পায়েস, পাকোয়ান, তালমিছরি, তাল মাখনা, তালের বড়াসহ রকমারি খাবার তৈরি হচ্ছে। ভাদ্রের বাতাসে মিশে আছে পাকা তালের মিষ্টি ঘ্রাণ। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত মৌসুমি ফল তাল এখন শহর ও গ্রামের হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে তাল দেখলেই অনেকের মনে পড়ে যায় শৈশবের দিন, পাকা তালের পিঠা-পুলি, তালের বড়া, পায়েস আর মিষ্টি রসের স্বাদ।

দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই কমবেশি তালগাছ দেখা যায়। কি সমতল, কি পাহাড় কিংবা হাওর-বাঁওড় সবখানেই দেখা যায়- ‘তাল গাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে উঁকি মারে আকাশে।’ আজ থেকে ১৫-২০ বছর আগে সারা দেশে হাজারো গাছের মধ্যে তালগাছ সারি দেখা যেত। কালের আবর্তে তালগাছ বর্তমানে অনেকটাই অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

বৃক্ষ রোপণ অভিযানকালে আমরা অন্যান্য গাছ লাগালেও তালগাছকে এড়িয়ে যাই। অপরিকল্পিত ভাবে তালগাছ কাটা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন আর মাঠের ধারে ও গেঁয়ো পথের পাশে সারি সারি তালগাছ চোখে পড়ে না। চোখে পড়ে না তালগাছে বাবুই পাখির বাসা বাঁধার মনকাড়া সেই দৃশ্য।সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এলেও তালের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো কমেনি।

উপজেলায় বিভিন্ন হাট-বাজারে বর্তমানে পাকা তাল বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে। বাজারে তালের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাকা তাল বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে প্রায় ২০ থেকে ৫০ টাকা দরে। তালের পাশাপাশি তালের শাঁসও মৌসুমে ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।

তাল বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন জানান, আগে গ্রামের রাস্তার পাশে কিংবা বাড়ির উঠানে সহজেই তাল পাওয়া যেত। এখন তালগাছ কমে যাওয়ায় আগের মতো তাল পাওয়া যায় না। ফলে বাজারে তালের দামও বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে তাল বিক্রি করে মৌসুমি আয় করছেন অনেক ছোট ব্যবসায়ী।

ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, তাল শুধু একটি মৌসুমি ফল নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও স্মৃতি। পাকা তাল দিয়ে তৈরি তালের বড়া, পিঠা, পায়েসসহ বিভিন্ন খাবারের স্বাদ এখনো মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়।

তালপাতার ব্যবহার বিভিন্ন রকম। হাত পাখার কথা তো বলাই বাহুল্য। এ দিয়ে টুপি, ঝুড়ি, চাটাই, মাদুর, বেড়াসহ নানা খেলনা তৈরি হয়। কাঠও দারুণ শক্ত এবং আঁশযুক্ত। সহজে পঁচে না বা নষ্ট হয় না। ছোট ডিঙি নৌকা তো হয়ই, ছাতির বাঁট, লাঠি, বাক্স, পাপোশ, কয়ার ইত্যাদি জিনিসও তৈরি হয় ওই তালগাছ থেকে।

তবে তালগাছ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী ফলের সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তালগাছ ফল দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন করে তালবীজ ও চারা রোপণের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *