👁 485 Views

ধামইরহাটে গৃহবধুকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতার-২

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি-
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় গৃহবধূ মেরিনা বেগমকে (৪৫) আমবাগানে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মুল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এই হত্যাকান্ড বলে জানা গেছে। ২০ আগস্ট দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান, নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃরা আসামীরা হলেন, উপজেলার মড়লই গ্রামের সামসুদ্দিনের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. তারেক রহমান (২১)।
সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁ পুলিশ সুপার জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুল দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর মাহমুদপুর গ্রামের একটি আমবাগান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে ওই নারীর আগুনে পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে পরিচয় নিশ্চিতের পর জানা যায়, ভুক্তভোগী মেরিনা বেগম বেশ কয়েক দিন যাবত নিখোঁজ ছিলেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, স্থানীয় সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনের অনৈতিক প্রস্তাব ও বিয়ের চাপ প্রত্যাখ্যান করায় চারজনের একটি দল পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকা- ঘটায়।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। টানা ৬/৭ ঘণ্টার অভিযানে বাবুল হোসেন ও তাঁর সহযোগী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকা-ে ব্যবহৃত বেল্টসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও জবানবন্দি অনুযায়ী জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট রাতে মোটরসাইকেলে করে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে গৃহবধু মেরিনাকে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন করতে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। নিহত মেরিনা উপজেলার খেলনা ইউনিয়নের হাসেন আলীর স্ত্রী। স্বামী হাসেন আলী ও ছেলে কাউসার আলী জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কুমিল্লায় অবস্থান করেন। গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে মেরিনা বেগম গরুর ঘাস কাটার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হলে আর ঘরে ফেরেননি।
প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, ধৃত আসামি মো. বাবুল হোসেনের সঙ্গে মেরিনা বেগমের পূর্ব পরিচিতি ছিল। সম্পর্ক আরও গভীর হলে মেরিনা বেগম বাবুল হোসেনকে বিয়ের চাপ দেন। বাবুল হোসেন বিয়ে করতে রাজি না হলে মেরিনা তাঁর বাড়িতে যাওয়ার হুমকি দেন অথবা আত্মহত্যা করতে চান। এরই জেরে গত রবিবার রাতে বিয়ের কথা বলে তাঁকে আগ্রাদ্বিগুন এলাকার তালপুকুর রাস্তায় ডেকে নিয়ে হত্যা করে পরিচয় গোপন করতে আমবাগানে পুড়িয়ে দেয়া হয় বলে জানান পুলিশ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *