
আব্দুল মান্নান, শার্শা (শার্শা) সংবাদদাতা ॥ প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যেই চলছে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। একাধিক মামলার আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছ তাদের অবৈধ কারবার। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শার্শা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের বিস্তার ঘটলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে ভবারবেড় গ্রামের পরিস্থিতি। স্থানীয়দের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভবারবেড় গ্রামে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় দ্রব্যের রমরমা বাণিজ্য চলছে। এর মধ্যে কুলসুম ও তানজিলা নামের দুই নারী মাদক ডিলারের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে। তারা পুরো এলাকায় নিয়মিত মাদক সাপ্লাই দিলেও আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদপে না থাকায় বহাল তবিয়তে রয়েছে। থানাসংলগ্ন এলাকায় এমন কারবার চললেও পুলিশের কার্যকর অভিযান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। সাগরিকা ও তানিজিলা দুই জন সহোদর। সাগরিকার স্বামী ইশারাত ভারত থেকে ফেনসিডিল আনার সময় বিএসএফ এর গনপিটুনিতে মারা যায় কয়েক বছর আগে। তিন দিন পর ইশারতের লাশ ইছামতি নদী থেকে উদ্ধার করে বিজিবি ও পুলিশ। এদিকে গোগা ইউনিয়নের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ি কালামের সাথে তানজিলা ও সাগরিকা ব্যবসা করতে করতে তানজিলার সাথে কালামের বিয়ে হয়। এরপর একটি সন্তান হওয়ার মাদকের টাকা পয়সা নিয়ে তাদের বনি বনা না হওয়ায় ডিভোর্স হয়ে যায়। ভবারবেড় গ্রামের আনাচে-কানাচে মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবসমাজ দ্রুত ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে এই মাদকের আগ্রাসন রোধ করা না গেলে সামাজিক অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মঞ্চে উঠে মাদক নির্মূলের বিষয়ে তীব্র ও অগ্নিঝরা বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় প্রধান স্লোগানগুলোর একটি ছিল ‘মাদক মুক্ত সমাজ গঠন’। অথচ ভোটের মাঠের সেই গরম বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়নি। উল্টো রাজনৈতিক বিভিন্ন পরিচয়ের ছত্রছায়ায় শার্শা-বেনাপোল সীমান্তাঞ্চলে মাদকের বিস্তার আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। পূর্বে মাঝে মাঝে ডিবি পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি এই মহল্লায় অভিযান পরিচালনা করে কিছু মাদকদ্রব্য উদ্ধার করলেও বর্তমানে জোরালো কোনো তৎপরতা নেই। এ দিকে উপজেলার শালকোনা, কাশিপুর, লক্ষণপুর, গোড়পাড়া, ডগের বাগান, যাদবপুর, দক্ষিণ বুরুজবাগান, বাগুড়ি বেলতলা, বাগআঁচড়া বাজার, গোগা, কায়বা, পুটখালী, দৌলতপুর, আমড়াখালী পৌরগেট, সাদীপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা, হরিনাপোতা সহ প্রত্যেকটি মাদক ষ্পটে মাদকের রমরমা ব্যবসা চলে প্রশাষনের নাকের ডগায়। অথচ পুলিশ প্রশাষন মাঝে মধ্যে মাদকের ছোট ছোট দু-একটি চালান ধরলেও মাদক সম্রাটদের গ্রেফতার করেন না। এ ব্যাপারে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ শামিনুল ইসলাম বলেন মাদকের ব্যপারে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করা হয়েছে এবং প্রতি মাসে মাদক উদ্ধার করে মামলা দেওয়া হচ্ছে।