
এম এম হারুন আল রশীদ হীরা, নওগাঁ: নওগাঁর আত্রাইয়ের নিহত সেই ১১ লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে স্বজনরা।
জানা যায়, সৌদি আরবের রিয়াদের খোরদাম শহরের সোফা কারখানায় আগুনে নওগাঁর আত্রাইয়ের নিহত সেই ১১পরিবার লাশ পাবার জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন। কবে আসবে তাদের সন্তানদের লাশ সেই অপেক্ষার সময় যেনো আর কাটছেই না।
গত রোববার সন্ধার পর থেকে সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন,নিহতদের লাশ দ্রুতই দেশে আনার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২০হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালী গ্রামের মিনহাজের মা পারুল বিবি সাংবাদিকদের বলেন,আমার সব শেষ হয়্য গেছে। ৮বছর আগে মিনহাজকে ধার-দেনা করে পাঠালেও সড়ক দূর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যায়। মাত্র কিছু দিন হলো আবারো কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে সন্তান চলে গেল না ফেরার দেশে। সন্তান মারা যাবার খবর পাবার পর থেকে চোখে আর ঘুম নেই বাবা। কখন সন্তানের লাশ আসবে। তাকে শেষ বারের মতো এক নজর দেখতে মনটাকে আর স্থির করতে পারছিনা।
গন্ডগোহালী গ্রামের মোহন ও সুমনের বাবা গোফফার প্রামানিক আকুতি করে বলেন,আপনারা যত দ্রুত পারেন আমাদের সন্তানদের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। সন্তানদের মুখ দেখতে অপেক্ষার সময় যেনো আর কিছুতেই কাটাতে পারছিনা।
একই গ্রামের কলি আহম্মেদের মামা নুরউদ্দীন বার বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। তিনি কান্নারত অবস্থায় বলেন,আগুনের সাথে সাথে আমাদের স্বপ্নগুলোও পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।
ডুবাই গ্রামের সুমনের ভাই সজিব জানান,বাড়িতে এসে ভাইয়ের বিয়ে করার কথা ছিল। অথচ এখন ফিরে আসবে কফিনে লাশ হয়ে । নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নিহতদের স্বজনদের তথ্য মতে, সৌদি আরবের খোরদাম শহরের একটি সোফা কারখানায় কাজ করতেন। সারা রাত কাজ করে দিনের বেলায় ঘুমিয়ে যেতেন তারা। রোববার সেখানকার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ৩ টার সময় তারা যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ করে তাদের কারখানায় আগুন ধরে যায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পরলে দরোজা খুলতে না পারায় কেউ বের হতে পারেনি। এর ফলে ১৬জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের গোফ্ফার প্রামানিকের দুই ছেলে মোহন ও সুমন,একই গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল ও বজলুর রহমানের ছেলে কলিমউদ্দিন ,ডুবাই গ্রামের বাদল তালুকদারের ছেলে সোহেল রানা ওরফে সুমন,একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ,মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামনিকের ছেলে মিনহাজ প্রামানিক,পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ সরদারের ছেলে জলিল সরদার,মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মজিদুল সরদার সজিব,উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে ফরিদ উদ্দিন এবং সাধনগর গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে সাগর আলী।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের প্রতি পরিবারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার সকালে ২০হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের অধিনে প্রতি পরিবারকে আরো ৩লাখ টাকা করে দেয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, নিহতদের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা দুতাবাসের সাথে যোগাযোগ করছি। তবে লাশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়তো কিছু দিন সময় লাগতে পারে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যেনো দ্রুতই লাশগুলো পরিবারের কাছে পৌছে দেয়া যায়।