👁 143 Views

চৌদ্দগ্রামে রাস্তার জায়গায় নিয়ে হামলায় যুবকের মৃত্যু

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার আহত হওয়ার ১১দিন পর মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত বিল্লাল হোসেন(২৬) উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামের আবদুল হামিদের একমাত্র ছেলে। বিল্লাল হোসেন পেশায় ত্রি-হুইলার চালক ও দুই সন্তানের জনক। বুধবার বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।
‎নিহত বিল্লাল হোসেনের চাচা মোঃ জহির জানায়, গত ২৪ জুলাই চলাচলের রাস্তায় প্রতিবেশি জয়নাল আবেদীন ছেলেরাসহ বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে বাড়ির লোকজন চলাচলের রাস্তার বেড়া সরাতে এলে প্রতিপক্ষের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেনের দা এর কোপে মাথায় গুরুতর আহত হয় মিশুক চালক বিল্লাল হোসেন। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার শেষে  কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
‎‎বিল্লাল হোসেনের বাবা আবদুল হামিদ বলেন, চলাচলের রাস্তার বেড়া সরাতে গিয়ে আমার ছেলের মাথায় জয়নাল আবেদীনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার রাতে আমার একমাত্র ছেলেটাকে হারাই। আমি খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার চাই।
‎‎অভিযুক্ত মোজাম্মেল হোসেনের মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ঝগড়ার সময় আমার ছেলের হাতে মোবাইল ছাড়া অন্য কিছুই ছিল না। আমার স্বামী এবং ছেলেরা তাদের ১২-১৩ জন লোকের হাতে মার খেয়েছে। তাঁর জেঠাতো ভাই মনির আমার ছেলে মোশারফকে দা দিয়ে আঘাত করতে গেলে আমার ছেলে সরে যাওয়াতে দা এর আঘাত বিল্লাল হোসেনের মাথায় লাগে। মনিরের অস্ত্রের আঘাতে বিল্লাল হোসেন আহত হয়।
তিনি আরও বলেন, ‎বিল্লাল শুধু মাথায় আঘাতের কারনে মারা যায়নি। আগে থেকেই তার কিডনির সমস্যা ছিল এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালেও ছিল। ঘটনার দিন বিল্লাল হোসেনের মাথায় সেলাই করে বাড়িতে নিয়ে আসে আসার পর সে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে আবার হাসপাতালে নিলে গেলে তার কিডনির সেই সমস্যাটা বেশী দেখা যায়। কিডনির সমস্যার জন্য কুমিল্লা টাওয়ারে তাকে ডায়ালসিস করা হয়। তার মেডিকেল রিপোর্ট অথবা হাসপাতাল থেকে তথ্য নিলেই প্রশাসন সব কিছু জানতে পারবে।
‎মোজাম্মেলের চাচা আবদুল হানিফ বলেন, আবদুুল হামিদ গংকে চলাচলের জন্য আমার বড় ভাই তার বাড়ির সামনের দিক দিয়ে আরো একটি রাস্তা দেয়। সমাজের বিচারকদের সিদ্ধান্তে বাড়ির পেছনের রাস্তাটি বন্ধ করে দিতে গেলে ঝগড়ার সৃষ্টি ও দুপক্ষের সংঘর্ষ ঘটে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, ‘রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত যুবক বিল্লাল হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতের বাবা আবদুল হামিদ বাদি হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *