👁 377 Views

শ্রীপুরে মসজিদ থেকে টেনে বের করে শিক্ষককে পিটিয়ে জখম- থানায় অভিযোগ

‎​আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:  ​গাজীপুরের শ্রীপুরে মসজিদ থেকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে মোঃ আইনুল হক (৩৫) নামের এক শিক্ষককে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আইনুল হক স্থানীয় হাজ্বী ছোট কালিম স্কুল এন্ড কলেজের একজন খণ্ডকালীন শিক্ষক। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‎​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ী (পশ্চিম পাড়া) এলাকার মৃত সূরুজ মিয়ার ছেলে মোঃ আইনুল হকের সাথে একই এলাকার মোঃ আলামিন (৩০)-এর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বিবাদী আলামিন এলাকায় সুদী ব্যবসায়ী ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী হিসেবে পরিচিত এবং তিনি প্রায়ই আইনুল ও তার পরিবারকে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

‎​ভুক্তভোগী শিক্ষক আইনুল হক অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি বাড়ির পাশের মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করতে যান। এ সময় বিবাদী আলামিন পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার রড নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেন এবং আইনুলকে জোরপূর্বক টেনে-হেঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসেন। পরে তাকে গালিগালাজসহ এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করেন।

‎​একপর্যায়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আলামিন লোহার রড দিয়ে আইনুলের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তিনি হাত দিয়ে তা ঠেকাতে যান। এতে তাঁর বাম হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে গুরুতর জখম হয়। এ সময় বিবাদী গলা টিপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান।

‎​আইনুলের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আলামিন ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তাকে খুন করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর বড় ভাই দুলাল মিয়া স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান এবং সেখানে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
‎​এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলামিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

‎​ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শ্রীপুর মডেল থানার এসআই নূর কাসেম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ভুক্তভোগীকে মারপিট এবং তার হাত ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *