
এস,আর শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাট। লালমনিরহাট-২(আদিতমারী- কালিগঞ্জ) আসনের এমপি রোকনুদ্দিন বাবুল ও তার ভাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর।এই দুই ভাইয়ের দুই গ্রুপে বিভক্ত বিএনপি।দুই পক্ষের কোনো এক পক্ষের স্বার্থে আঘাত আসলেই হেনস্থার স্বীকার হতে হয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি।বাদ যায়না দলের শীর্ষনেতা থেকে কর্মীরাও।
রমজান আলী নামক একজন ব্যক্তিকে আটক করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ।এর প্রতিবাদে ১১ জুন মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে জাহাঙ্গীররগ্রুপ।এসময় কালিগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিককে আওয়ামীরেগের দোসর বলে আখ্যায়িত করা হয়।এই আন্দোলনের নেতৃত্বে আজাদ বাবু,উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুক্তাকে দেখা যায়।এই গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনও করা হয়।
এর ঘন্টাখানেক পর কালিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান ও এমপির কাছের লোকদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।এতে প্রতিপক্ষকে গ্রুপকে আওয়ামী দোসর হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
রোকনউদ্দিন বাবুল অনুসারি উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক, শামসুজ্জামান সবুজ, বলেন আওয়ামীলীগের দোসর দের কোন ছার দেওয়া হবেনা যারা বিগত দিনে আওয়ামীলীগ করেছে তারা এখন বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে নাশকতা করার পরিকল্পনা করতেছে,তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
মানববন্ধন জাহাঙ্গীর অনুসারীরা বলেন কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একজন দুর্নীতিবাজ,মাদক সিন্ডিকেটের হোতা এবং ঘুষ খোর। সে উপজেলায় মাদক কারবারিদের আটক করে অন্য মামলা বানিজ্য করছে।ফলে উপজেলায় আইনশৃঙ্খলার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। আমরা তার দ্রুত অপসারণ দাবি করছি।
কালিগঞ্জ থানা পুলিশ জনায়,হট্টোগোলের কেন্দ্রে থাকা রমজান আলী আওয়ামীলীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ আজিজার রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছিলো।যে গ্রুপটি আওয়ামীলীগের লোকজন ব্যাবহার করে।সেই সুত্র ধরে আটক হয় রমজান।রমজান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহব্বায়ক জাহাঙ্গীরের আত্মীয়।এতে জাহাঙ্গীর ক্ষিপ্ত হয়।
বানিনগরের হেলাল নামের একজন বিএনপি নেতার দাবি,জাহাঙ্গীর গ্রুপ প্রকাশ্যে জামায়াতের ভোট করেছে।বিএনপির পরিচয় দেয়ার অধিকার তাদের নাই।
পুলিশ ও প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারির সাথে কথা হয়।তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,দীর্ঘদিন থেকে চলে সরকার দলীয় দুটি গ্রুপের বিভক্তিতে চরম বিব্রত।দৈনন্দিন কাজেও তাদেরকে বিব্রত হতে হয়।
লালমনিরহাটের প্রবীণ রাজনীতিক ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সালেহউদ্দিন হেলাল বলেন,সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ।সরকার প্রধান তারেক রহমান যেভাবে দেশ চালাতে চাচ্ছেন,তাতে আমাদের সকলের সহোযোগীতা করা উচিত।দীর্ঘদিন থেকে চলা এমন বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।দলের হাইকমান্ডের উচিত দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া।হ্যাঁ,আমাদের আমাকে যদি ভূমিকা রাখতে হয়,আমি অবশ্যই বিরোধ বন্ধে ভূমিকা রাখবো।
ট্যাগিং ও রাজনৈতিক বিভক্তি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার বিষয়ে পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন,বিভক্তির কারণে আমাদের কাজ করতে একটু অসু্িধা তো হয়।সব কাজেই দুটি পক্ষ থাকে।কোনো কাজ করতে গেলে দুই পক্ষ খুশি হতে পারেনা।এক পক্ষ খুশি হলে,অন্যপক্ষটি মনে করে পুলিশ হয়তো কোনো সুবিধা নিয়ে কাজটি করলো।ট্যাগিং এর যে বিষয়টা,সেটার কারণে ব্যক্তি হিসাবে একটু খারাপ লাগা হয়তো কাজ করে।তবে,কোনো কিছুতেই আমাদের নৈতিকতা হারালে চলবেনা।আমরা প্রজান্ত্রের কর্মচারি।