👁 103 Views

চৌদ্দগ্রামে জোরপূর্বক নারীর জায়গা দখল চেষ্টা থানায় অভিযোগ   

‎চৌদ্দগ্রাম কুমিল্লা প্রতিনিধি,  ‎কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিরীহ নারীর জায়গায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ করছেন স্থানীয় তাজুল ইসলাম নামের এক প্রভাবশালী। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় ভুক্তভোগী শেফালী আক্তারের অভিযোগ দায়েরের প্রেক্ষিতে পুলিশ ঘর নির্মাণে বারণ করেন ওই প্রভাবশালীকে। তবে পুলিশের বারণ উপেক্ষা করে জোরপূর্বক নির্মাণকাজ চলমান রেখেছেন স্থানীয় ওই আ’লীগ নেতা। মঙ্গলবার উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাইজকরা গ্রামে গিয়ে পাওয়া যায় এই সত্যতা।
‎শেফালী আক্তারের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর ইউনিয়নের বাইজকরা গ্রামের আলকাছ মিয়া ২০০৩ সালে পৃথক তিনটি দলিলে বিএস ১৬০ দাগে নিজ সন্তান মোখলেছ মিয়াকে ৪ শতক, দুই মেয়ে পারুল আক্তার ও শেফালী আক্তারের নামে ২ শতক, একই বাড়ির তাজুল ইসলামকে ৩ শতক জায়গা লিখে দেন। পারুল ও শেফালী আক্তারের কাছে ২ শতক বিক্রি করেন ভাই মোখলেস মিয়া। এরপর তাজুল ইসলাম তার তিন শতকের সাথে পারুল ও শেফালীর কাছ থেকে  ৪ শতক জায়গা ক্রয় করার জন্য ৩০ হাজার টাকা বায়না করেন। এরপর তিনি পারুল আক্তারকে ৪ লক্ষ টাকা দিয়ে মোট ৫ শতক জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণ করেন। জায়গার অবশিষ্টাংশ শেফালীর বলে ফেলে রাখে। এরপর শেফালীর টাকা নিয়ে গড়িমসি শুরু করে তাজুল ইসলাম। বর্তমানে এখানে শেফালীর জায়গা নেই বলে তাজুল ইসলাম ওই জায়গায় ঘর নির্মাণ শুরু করে। শেফালী বাঁধা দিতে গেলে তাজুল ইসলাম, তার ছেলে ও নাতী দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসে। নিরুপায় শেফালী চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগ করলে সরজমিন তদন্ত কর্মকর্তা তাজুল ইসলামকে ঘর নির্মাণে নিষেধ করে। কিন্তু তাজুল ইসলাম জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে।
‎এ বিষয়ে প্রতিবেশি টিপু বলেন, জায়গা কেনা-বেচার সময় আমি ছিলাম না। আর বিবদমান ওই জায়গা কার তাও জানিনা। তবে ওই জায়গা পৈতৃক সূত্রে শেফালীদের দখলেই ছিল।
‎স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পারুল আক্তারের স্বামী বাবুল মিয়া বলেন, ক্রয় বিক্রয়ের সময় আমিও ছিলাম না। তবে তাজুল ইসলাম জায়গার মূল্য বাবদ আমার স্ত্রী পারুলকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেয়। এখন তাজুল ইসলাম বলছেন দলিল রেজিস্ট্রি করে দিলে বাকি টাকা দিবে।
‎তবে অভিযুক্ত প্রভাবশালী আ’লীগ নেতা তাজুল ইসলাম বলছেন, তিনি ঘর নির্মাণ করছেন নিজের জায়গায়, ওখানে শেফালীর কোন জায়গা নেই।
‎ভুক্তভোগী শেফালী আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে দলিল মূলে আমরা দুই বোন ৪ শতক জায়গা ক্রয় করি। যা আমার চাচা তাজুল ইসলামের ঘরের সাথে। তিনি জায়গা কেনার কথা বলে প্রথমে অর্ধেকে ঘর তোলেন। এরপর বাকি অংশে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। আমি স্বামীর বাড়ি থেকে ওখানে গিয়ে বাঁধা দিলে তারা আমাদের মারতে আসে এবং জায়গা দাবি করলে একেবারে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
‎চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো: সাইদুর রহুমান বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাজুল ইসলামকে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখতে ও সমস্যা সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে বসতে বলেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *