👁 718 Views

বাহার উদ্দিন পরিবারের মিলনমেলা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :  সম্পর্কের বন্ধন আরও হোক দৃঢ়”— এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা বলারবাড়ী গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে মরহুম বাহার উদ্দিন পরিবারিক মিলনমেলা-২০২৬। গত শনিবার (৩০ মে) দিনব্যাপী আয়োজিত এ মিলনমেলা পরিণত হয় ভালোবাসা, ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উৎসবে।
মরহুম বাহার উদ্দিনের তিন সন্তান— লাল মোহাম্মদ (সাবেক অধ্যক্ষ, দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ), মরহুম মকবুল হোসেন (সাবেক ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) এবং আব্দুল বারী (সাবেক প্রধান শিক্ষক, দিঘা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)— তাঁদের উত্তরসূরিদের নিয়ে এই মিলনমেলার আয়োজন করেন। পরিবারের আট পুত্র, নয় কন্যা, নাতি-নাতনি ও প্রপৌত্র-প্রপৌত্রীদের অংশগ্রহণে চার প্রজন্মের এক মহামিলনের সাক্ষী হয় গ্রামের পরিবেশ।
অনুষ্ঠানটি ছিল শুধু আনন্দ-উৎসবের নয়, বরং শিকড়ের সন্ধান ও পারিবারিক ইতিহাস জানার এক মূল্যবান উপলক্ষ। প্রবীণ সদস্যরা শান্তির প্রতিক কবুতর উড়িয়ে অানিষ্ঠানিকতা শুরু করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম, ত্যাগ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধের নানা স্মৃতিচারণ। পরিবারের ছোট সদস্যরা মনোযোগ দিয়ে শুনে নিজেদের ঐতিহ্য ও বংশপরম্পরার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
আয়োজকরা জানান, আধুনিকতার ব্যস্ত জীবনে আত্মীয়তার বন্ধন অনেক সময় শিথিল হয়ে পড়ে। সেই বন্ধনকে আরও দৃঢ় ও প্রাণবন্ত করতেই এই মিলনমেলার আয়োজন। তারা বিশ্বাস করেন, পারিবারিক ঐক্য ও মূল্যবোধের চর্চা একটি সুন্দর সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।
দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন খেলাধুলা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, পুরস্কার বিতরণ এবং পারিবারিক আলোকচিত্র ধারণের আয়োজন। হাসি-আনন্দ আর আবেগঘন মুহূর্তে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত পরিবার সদস্যরা বলেন, “সম্পদ নয়, সম্পর্কই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই মিলনমেলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা একই শিকড়ের সন্তান। আগামী প্রজন্ম যেন পারিবারিক ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসা ধারণ করে বড় হতে পারে, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। ”পারিবারিক ভালোবাসা, ঐক্য ও উত্তরাধিকার সংরক্ষণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে মরহুম বাহার উদ্দিন পরিবারিক মিলনমেলা-২০২৬। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন করে দৃঢ় হয়েছে আত্মার টানে গড়া আত্মীয়তার বন্ধন, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান থাকবে ভালোবাসার সেতুবন্ধন হয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *