👁 400 Views

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে ভারতে আত্মহত্যা করলেন সাগর

রফিকুল বারী,মাদারগঞ্জ প্রতিনিধি  ; ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় জামালপুরের মাদারগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মোস্তাক আহমেদ সাগর (২৫)। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি বাজার এলাকার বাসিন্দা ও পল্লি চিকিৎসক মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছর ধরে ভারতের দিল্লির ফরিদাবাদ এলাকায় অবস্থিত মানব রচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন সাগর। শনিবার (২৩ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস পোস্ট করার কিছু সময় পর তিনি আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।

তার বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিকেলে ছেলের দেওয়া ফেসবুক পোস্ট দেখতে পান স্বজনরা। পরে ভারত থেকে তার মৃত্যুর সংবাদ আসে। খবরটি পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়।

ফেসবুক পোস্টে সাগর মা-বাবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে লেখেন, জীবনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুদ্ধ করে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে না পারার আক্ষেপও প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের কাছের মানুষদের কাছে দোয়া চান এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

স্ট্যাটাসের আরেক অংশে তিনি ব্যক্তিগত হতাশা ও অপূর্ণ ভালোবাসার কথাও উল্লেখ করেন। কাউকে দোষারোপ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি লেখেন, তার সিদ্ধান্তের জন্য যেন অন্য কাউকে দায়ী করা না হয়। মৃত্যুর পর পোস্টমর্টেম না করা এবং ঝামেলাহীনভাবে দাফনের কথাও উল্লেখ করেন ওই পোস্টে।

সাগরের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ। বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী ও স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন। অনেকেই তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

পরিবার ও স্বজনরা দ্রুত সময়ের মধ্যে সাগরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

নিহত সাগরের মা সুফিয়া বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে সাগরের সাথে কথা হয় ” তুমি কি করো ?উত্তরে বলে “শুয়ে আছি “তুমি শুয়ে আছো, গোসল করবা না,খাবা না। পরীক্ষার সামনে পড়াশোনা করার লাগবো না? পরীক্ষা দেরি আছে ২৬ তারিখে।
বাবা তোমাকে যে চল্লিশ হাজার টাকা দিলাম কলেজে দিছো, নিজে কিছু খরচ রাখ, হিসাব বা কলেজের মেমো তো দিলা না? হোয়াটসঅ্যাপে ঠিক আছে দিমুনি ,এখন ফোন রাখো বলেই লাইন কেটে দেয় সাগর। পড়াশোনা করে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন ছিল আমার ছেলের।

স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জানান ,মোস্তাক যে ভার্সিটিতে পড়তো ঐ ভার্সিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষে এক মহিলা ফোন দিয়ে বললেন ,মোস্তাক আহমেদ সাগর মারা গেছে। এলাকাবাসী ও পরিবারের পক্ষ থেকে তার মরদেহ টি সরকারের মাধ্যমে ফেরত চায়। জানতে পারছি দিল্লির একটি হাসপাতালে তার মরদেহ আছে এবং এ জায়গার পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করতেছে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানারওসি স্নেহাশিস রায় জানান ,শিক্ষার্থী মোস্তাক আহমেদ সাগর এর মৃত্যুর বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে অবগত হয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *