
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস পার্টি’র নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক লক্ষাধিক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস মিয়া ও তাঁর সহযোগী কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং সচেতন মহল।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্লাস পার্টি’র আয়োজনের কথা বলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ক্লাস পার্টিতে নামমাত্র খাবার পরিবেশন করে আদায় করা অর্থের বড় অংশের যথাযথ হিসাব দেওয়া হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ষষ্ঠ শ্রেনীর ক্লাস পার্টি শেষ হয়েছে। আগামী সোমবার নবম শ্রেনীর ক্লাস পার্টি রয়েছে বলেও বিশ^স্ত সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও অসহায় পরিবারের অভিভাবকেরা আর্থিক সংকটে থাকলেও শিক্ষকদের হয়রানি ও বিব্রতকর পরিস্থিতির আশঙ্কায় টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক ইউনুস মিয়া স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষককে নিয়ে একটি বলয় তৈরি করে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের ভয়ে এসব বিষয়ে মুখ খুলতে পারছে না। ফলে তারা অনেকটা অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, ক্লাস পার্টির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের বিষয়ে অধিকাংশ শিক্ষক কিছুই জানেন না। সব শিক্ষকের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শও করা হয়নি। প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ মতামত দিলে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে অনেক শিক্ষক প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। এছাড়াও বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব এবং শিক্ষকদের মধ্যে একটি পক্ষের একতরফা প্রভাবের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, ক্লাস পার্টির নামে অর্থ আদায় ছাড়াও বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের রেজিষ্ট্রেশন, টিউটরিয়াল, অর্ধবার্ষিক, প্রাক – নির্বাচনী, নির্বাচনী, বার্ষিক পরীক্ষা ও এসএসসি’র ফরম ফিলাপের নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক সকালে ও রাতে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমেও লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার ঘটনা ঘটছে। এসব বিষয়ে যথাযথ তদারকি না থাকায় বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও দাবি তাঁদের।
এদিকে বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁরা মনে করেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব প্রকাশ এবং বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউনুছ মিয়া বুধবার বলেন, ক্লাস পার্টি নামে কোন অনুষ্ঠানে আমাদের বিদ্যালয়ে হয় না। কিছু দিন আগে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শেষ ক্লাস উপলক্ষে পরিচালনা কমিটির দায়িত্বরতদের পরামর্শে একটি অনুষ্ঠান হয়। কোন ধরনের টাকা আদায় করা হয়নি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল করিম বলেন, আমি এখানে কয়েকদিন আগে যোগদান করেছি। কাশিনগর বিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস পার্টি নিয়ে কোন তথ্য জানা নেই। খোঁজ নিয়ে কোন ধরনের
অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।