
এম সাজেদুল ইসলাম (সাগর) , নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর): দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে রাজমিস্ত্রি মফিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রধান সন্দেহভাজন ছাড়া নতুন করে আর কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনরা। হত্যাকাণ্ডে আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত মফিদুল ইসলাম উপজেলার মালদহ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বাড়ির পাশের একটি ফসলি জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এই জমি সংক্রান্ত শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবেশী মাসুদ মিয়ার ডাকে তার সঙ্গে বাড়ি থেকে বের হন মফিদুল ইসলাম। এরপর গভীর রাত পর্যন্ত তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পেয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের চার দিন পর, প্রতিবেশী মাসুদ মিয়ার বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে মফিদুল ইসলামের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেশী মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের গভীরতা এতটাই বেশি ছিল যে, এ ঘটনায় শুধু একজন ব্যক্তির পক্ষে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো এবং লাশ গুম করা সম্ভব নয়। তাদের দাবি, মাসুদের সঙ্গে আরও কয়েকজন এই অপরাধে সরাসরি অংশ নিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী বা অন্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে না পারায় তদন্তের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর আশঙ্কায় পরিবারটি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন নিহতের অসহায় মা ও স্ত্রী।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “হত্যাকাণ্ডের মামলাটির তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে আর যার যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তথ্য-প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই।”