👁 72 Views

চট্টগ্রামে পানির ট্যাংকে লুকানো ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ  সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল নেয়ার সময় অবৈধ ভাবে এসব তেল মজুদ করা হয়।
চট্টগ্রাম নগরে জ্বালানি তেলের সংকটকে পুঁজি করে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ছয় হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন ও নগর পুলিশের যৌথ দল। পানির ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা এসব ডিজেল উদ্ধারের ঘটনায় চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) নগরের পতেঙ্গা থানাধীন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন বাটারফ্লাই পার্কের বিপরীতে মাদ্রাসা গেইট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং নগর পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র গোপনে ডিজেল মজুত করে আসছিল। পানির জন্য ব্যবহৃত দুটি বড় ট্যাংকের ভেতরে কৌশলে এসব জ্বালানি সংরক্ষণ করা হয়, যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়। পরে সুযোগ বুঝে এসব ডিজেল খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল তাদের।
অভিযানকালে তেল লোডিং ও আনলোডিংয়ে ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী পাম্পসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া ডিজেল ও সরঞ্জামের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় আটার লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা জেনেছেন, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় একটি চক্র জ্বালানি তেল সরিয়ে বিক্রির জন্য মজুদ করে।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার জানান, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুতের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দকৃত ডিজেল ও সরঞ্জাম আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা আহম্মেদ বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে নজরদারিতে রাখার পর শুক্রবার দুপুরে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই), জেলা প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযুক্ত মূল হোতার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ মজুত, মুনাফাখোরি বা সিন্ডিকেট কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *