👁 396 Views

গ্রেফতারের পরদিন চট্টগ্রাম কারাগারে হার্ট এ্যাটাকে যুবলীগ নেতার মৃত্যু

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ  চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারে ‘অসুস্থ হয়ে’ এক যুবলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে, যাকে আগের দিন সাতকানিয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। নুরুল আলম গতকাল মঙ্গলবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। ২০২৪ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলেন, সাতকানিয়া থানার একটি মামলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নুরুল আলমকে কারাগারে আনা হয়েছিল। বুধবার সকালে তার শ্বাস প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হয় এবং তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা বলেন। দ্রুত তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নুরুল আলমের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

নুরুল আলমের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। মঙ্গলবার দুপুরে সেখান থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, নুরুল আলম সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন না। নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় তিনি ব্যবসা করতেন।

তার বড় ভাই নূর মোহাম্মদের অভিযোগ, জায়গা জমি নিয়ে স্থানীয় কিছু লোকের সঙ্গে বিরোধের জেরে ‘যুবলীগ ট্যাগ’ দিয়ে নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ওর বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করত, নিয়মিত রেয়াজউদ্দিন বাজারের দোকানে বসত। কেরানীহাটে আমাদের একটি জমি নিয়ে কিছু লোকের সাথে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে।”

নূর মোহাম্মদ বলেন, “মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে আমার ভাইকে সাতকানিয়া থানার সামনে থেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তড়িঘড়ি করে তাকে থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় যখন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখনও সে সুস্থ স্বাভাবিক ছিল। আজ সকালে আমাকে কারাগার থেকে মৃত্যুর খবর জানিয়ে হাসপাতালে যেতে বলা হয়।”

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)র কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,  ২০২৪ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে গতকাল বিকেলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরন করেছে বলে শুনেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *