👁 423 Views

মধুখালীতে ভোগান্তির নাম কামারখালী বাজার

শাহজাহান হেলাল,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি. মঙ্গলবারঃ  ফরিদপুরের মধুখালীতে উপজেলার  কামারখালী ইউনিয়নে অবস্থিত কামারখালী বাজার  শত বছরের পুরনো হলেও এই বাজারে এখন ও গড়ে ওঠেনি কোনো গণশৌচাগার। ময়লা-আবর্জনা ফেলার  জন্য নেই কোনো নির্ধারিত স্থান। এমন কি পানি নিষ্কাশনের জন্য পরিকল্পিত ড্রেন পর্যন্ত করা হয়নি।ফলে বাজারে আসা ক্রেতা -বিক্রেতাদের প্রায়ই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় একটু বুষ্টি হলেই ভোগান্তির আর এক নাম কামারখালী বাজার।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। শুধু কামারখালী নয়,মধুখালী উপজেলার প্রায় সব বাজারেই রয়েছে এ রকম অব্যবস্হ্যাপনা। ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে বাজারে স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার,  ময়লা – আবর্জনা রাখার নির্ধারিত স্থান, ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্হা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। জানা যায় মধুখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ছাড়া ও ১১ টি ইউনিয়নে সর্বসাকুল্যে দৈনিক ও সাপ্তাহিক হাট মিলিয়ে অন্তত  এক ডজন বাজার রয়েছে। যেখানে নির্ধারিত হাট- বাজারে প্রতিদিন হাজারো সাধারণ ক্রেতা- বিক্রেতার সমাগম ঘটে থাকে। কিন্তু ঐ বাজারগুলোর অধিকাংশেরই নেই ময়লা ফেলার স্হান,কার্যকরি ড্রেনজ- গণশৌচাগার ব্যবস্হা।ফলে বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কামারখালী বাজারটি ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশেই পুরনো ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ১ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে। এখানে দৈনিক বাজারের পাশাপাশি সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার নিয়মিত হাট বসে । কাঁচা বাজারের পাশাপাশি ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ধান,পাট,চৈতালীসহ নানা রকম  পন্য নিয়ে হাজির হয়ে থাকেন । বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটবারে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকে।অনেক ব্যবসায়ীকে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করতে হলেও সেখানে গণশৌচাগার না থাকায় বিব্রত অবস্থায় পরতে হয়।

প্রকৃতির প্রয়োজন হলে ব্যবসায়ীদের  দোকান বন্ধ করে ফিরে যেতে হয় বাড়িতে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা লিপি পারভীন বলেন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়া লাগবেই শিশু বাচ্চা নিয়ে উপায়ন্তর না পেয়ে নিকটবর্তী কোন বাড়িতে গিয়ে রক্ষা পেলাম,বহু বছরের পুরনো বাজার এরকম অবস্হ্যায় চলতে পারেনা।স্হানীয় বণিক সমিতির অর্থ সম্পাদক রোকনুজ্জামান বলেন সাধারণ ব্যাবসায়ীদের পক্ষ থেকে বনিক সমিতির নেতাদের এসব বিষয়ে বারবার জানানো হলেও কি কারণে সমাধানে কখনো এগিয়ে আসেনি।স্হানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে এসব বিষয়ে একাধিকবার জানিয়ে ও  কোনো কাজ হয়নি।কামারখালী বাজার বনিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন পুরাতন এই বাজারটি রেজিষ্ট্রেশন পাইনি আমরা সে বিষয়ে কাজ করছি,গণশৌচাগার, পয়োনিষ্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্হা খুবই জরুরি হলেও কিছু জটিলতা রয়েছে।বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কাজী মতিউল ইসলাম মুরাদ বলেন স্বাস্থ্যসম্মত ও আধূনিক একটি টয়লেট আছে কিন্ত সুইপারের অভাবে উন্মুক্ত করে দিতে পারছিনা।বাজারে কোন ঝাড়ুদার না থাকায় নিয়মিত পরিস্কার পরিছন্ন রাখাও সম্ভব হচ্ছে না।ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন করতে পারছিনা কারন রেলের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্ভব হবে না।কামারখালী ইউনিয়ন পরিসদের চেয়ারম্যান মো: রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান জানান নারী পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে কিন্ত সুইপারের অভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করতে পারছিনা। বাজারের ভিতর দিয়ে রেলপথ যাওয়ার করনে এবং মধুমতি নদীর উপর রেলসেতু নির্মাণাধীন থাকায় মালমাল পরিবহন করতে হয় । ড্রেন আছে মাটিতে ভরে যায়। কয়েক বার পরিস্কার করা হয়েছে কিন্ত অল্প দিনেই ভরে যায়।

 এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন কামারখালী বাজার ব্যবস্হাপনার বিষয়ে সেখানকার বণিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে।পাশাপাশি উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোর বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হবে।

উল্লেখ্য এক সময় বড়বড় নৌজান কামারখালী ঘাটে ভিরতো। পাটের বড় বাজার হওয়াতে অনের বড়বড় জুট মিলের ক্রয় কেন্দ্র ছিল এই বাজারে।আজ কেবলই সে সব স্মৃতি। মধুমতি নদীর তীরে কামারখালী বাজার অবস্থিত হওয়ায় নৌপথে চলাচল ছিল সহজ এবং সাশ্রয়ী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *