👁 64 Views

ভোলায় চিকিৎসায় অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধিঃ আমাদের সমাজে প্রতিটি পরিবারের সন্তান-সন্ততি নিয়ে বেঁচে থাকার হাজারো স্বপ্ন অথচ সামান্য লোভের কারনে নিউ ইসলামিয়া ডায়াগনেষ্টিক কতৃপক্ষের মাধ্যমে সেই স্বপ্নের প্রদীপ জ্বলার আগেই চিরতরে নিভিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।ভোলার বোরহানউদ্দিনের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের-নিউ ইসলামিয়া ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারে ঢাকা থেকে হায়ার করা কথিত ডাক্তার প্রিয়াংকা গোলদারের বিরুদ্ধে অজ্ঞতা,অবহেলা ও গাফিলতির কারনে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিহত শিশুটির গর্ভধারনী মা নুপুর বেগম ও বাবা মোঃ রাকিব। গত ৩ সপ্তাহ যাবৎ এলাকাবাসির প্রশ্ন,গর্ভের সন্তানের ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত হয়ে থাকলে কেন ব্যবস্থ্যা পত্রে এবং পরিবারকে বিষয়টি যথা সময়ে জানানো হয়নি। প্রায় ৫-৬ বছর যাবৎ নিউ ইসলামিয়া ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের মালিকেরা ঢাকা থেকে অজ্ঞ ডাক্তার বোরহান উদ্দিনে এনে চিকিৎসা সেবার নামে মানুষ হত্যার কারখানা তৈরী করেছে বলে অভিযোগ তোলেন।
পিতা রাকিবের অভিযোগ,তাঁর স্ত্রী গর্ভধারণের দুই মাস পর থেকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার নিউ ইসলামিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসক ডা.প্রিয়াঙ্কা গোলদারের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। প্রায় ৯ মাস পর গত ৮ অক্টোবর রাতে সেখানে দুটি আলট্রাসনোগ্রাম করা হলেও তাঁদের হাতে দেওয়া হয় মাত্র একটি রিপোর্ট। অন্য রিপোর্টটি কোথায় ? আর পরীক্ষার ফলাফলে কী তথ্য ছিল এ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।
অভিযোগ রয়েছে, গর্ভের সন্তানের শারীরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চাইলেও চিকিৎসকের কাছ থেকে সন্তোষজনক সেবা পাননি তাঁরা। ৮ ঘণ্টার মধ্যে সদর হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হলেও কেন এত দ্রুত ভর্তি প্রয়োজন,কী ধরনের জটিলতা রয়েছে এবং প্রসবের ক্ষেত্রে কী প্রস্তুতি নিতে হবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
অভিযোগে উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। চিকিৎসক ডাঃ প্রিয়াঙ্কা গোলদার সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন, আলট্রাসনোগ্রামে তিনি গর্ভের শিশুর গলায় নাড়ি পেঁচানো দেখতে পেয়েছিলেন। বিষয়টি শনাক্ত করার পর রোগীকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করেছিলেন বলেও দাবি তাঁর, যা সম্পুর্ন মিথ্যা। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন ঝুঁকির বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর রোগী ও স্বজনদের কতটা জানানো হয়েছিল ? রেফার করার সময় কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল ব্যবস্থা পত্রে, আলট্রাসনোগ্রামের দুটি রিপোটের মধ্যে অন্যটি কোথায় ?
এদিকে চিকিৎসকের পেশাগত যোগ্যতা ও বিশেষজ্ঞ পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনলাইনে দেখা বিএমডিসি নিবন্ধন তথ্যে তাঁর বিশেষজ্ঞ ডিগ্রির উল্ল্যেখ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রচারপত্র ও ব্যানারে তাঁকে গাইনী ও প্রসূতি, যৌন ও চর্মরোগের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সন্তানের জন্মের পর থেকেই শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতায় পড়ে নবজাতকটি। শিশুটির গলায় দুই পাক নাড়ি পেঁচানো ছিল বলে জানান বাবা রাকিব। অবস্থার অবনতি হলে ভোলা থেকে বরিশাল, পরে ঢাকায় নেওয়া হয় তাকে।
টানা ১৬ দিন এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল শিশুটি।এর মধ্যে ১৪ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করে নবজাতকটি। এই খবর বোরহান উদ্দিন নিউ ইসলামিয়া ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের মালিকদের কাছে পৌছলে তারা মৃত নবজাতকের পিতা রাকিব ও মা নুপুর বেগমকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করে আসছেন বলে অভিযোগ ভুক্ত ভুগিদের।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা সিভিল সার্জন মো. মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন,অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন বিএমডিসিতে পাঠানো হবে এবং বিভাগীয় ভাবে তার বিচার হবে।