
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি- রবিবার ১ নভেম্বর : ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে বিচারাধীন মামলার আসামি সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডুকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ‘কনডেম সেলে’ রাখার অভিযোগে কারা কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে ।
আজ রবিবার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফরের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আসিবুর রহমান আসিফ এ নোটিশ পাঠান । নোটিশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) এবং ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে বিবাদী করা হয়েছে ।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, কারা বিধি অনুযায়ী কনডেম সেল কেবল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের জন্য নির্ধারিত । বিচারাধীন কোনো আসামিকে সুনির্দিষ্ট বিচারিক আদেশ ছাড়া সেখানে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি ।
আইনজীবী দাবি করেন, অরিত্র কুন্ডু বিচারাধীন মামলার আসামি, দণ্ডপ্রাপ্ত নন ।
তাঁকে কনডেম সেলে আটকে রাখা সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার এবং ৩৫(৫) অনুচ্ছেদে নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ থেকে সুরক্ষার অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন । এর ফলে তিনি তীব্র মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা থাকলেই তাঁর মানবিক মর্যাদা ও আইনি অধিকার খর্ব করা যায় না। বিচারাধীন বন্দির সঙ্গে আইনসম্মত আচরণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট শেখ আসিবুর রহমান আসিফ, বিএমএসএফের সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেনসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
এর আগে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান দাবি করেছিলেন, সুরক্ষার স্বার্থেই অরিত্র কুন্ডুকে অন্য বন্দিদের থেকে আলাদা করে কনডেম সেলে রাখা হয়েছে ।
তবে কারা কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও দুর্নীতিবাজ নেতার মদদে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিক অরিত্রকে এই সেলে রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ অক্টোবর ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা দুটি মামলায় (মামলা নং ৪৭ ও ৪৮) গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন সাংবাদিক অরিত্র কুন্ডু ।
বিএমএসএফ ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে সম্পূর্ণ আইনি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।