👁 237 Views

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে বেতার-টেলিভিশনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ শিল্পী সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদের নাম ব্যবহার করে বেতার ও টেলিভিশনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের আঞ্চলিক ও লোকজ গানের শিল্পী সিরাজুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে। তার কথিত প্রভাব ও হস্তক্ষেপে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা চাপে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিল্পী। এতে সুযোগবঞ্চিত ও সাধারণ শিল্পীদের মধ্যে বাড়ছে চাপা ক্ষোভ। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চকরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান থাকাকালীনও তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তার সেই প্রভাব বিস্তারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে নিজেকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদের পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন বেতার ও টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি। তার এমন প্রভাবে তটস্থ রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিল্পী।

এদিকে কক্সবাজার বেতার কেন্দ্রকে ঘিরেও তার ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের কথা জানিয়েছেন একাধিক শিল্পী। তাদের অভিযোগ, আঞ্চলিক ও লোকজ গানের অডিশন এবং বিচারিক কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততা নিয়ে স্বজনপ্রীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিল্পীরা।

স্থানীয় শিল্পীদের অভিযোগ, আঞ্চলিক গানের সুস্থ ধারা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনেও তার ভূমিকা রয়েছে। তাদের ভাষায়, সংগীতের মান ও যোগ্যতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং প্রভাবকে প্রাধান্য দেওয়া হলে প্রকৃত মেধাবী শিল্পীরা বঞ্চিত হন।
এদিকে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক সুবিধা ভোগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে আবারও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অধিকারবঞ্চিত শিল্পীরা। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তাকে আবারও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের একটি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

তাদের দাবি, সরকারি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক প্রভাব নয়, বরং যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নীতিমালার ভিত্তিতে শিল্পী নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের প্রশ্ন, একজন শিল্পীর রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রভাবের দোহাই দিয়ে সরকারি বেতার ও টেলিভিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কতটা প্রভাবিত হতে পারে? অডিশন, শিল্পী তালিকাভুক্তি এবং বিচারিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি কোথায়?
অভিযোগগুলোর বিষয়ে শিল্পী সিরাজুল ইসলাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে কক্সবাজার বেতার কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের কাছে অডিশন প্রক্রিয়া, বিচারক নিয়োগ এবং শিল্পী তালিকাভুক্তির বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী শিল্পীরা।

তাদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং সরকারি গণমাধ্যমে যোগ্য ও মেধাবী শিল্পীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।