👁 515 Views

 শ্যালিকাকে বিয়ে, মুখে চুনকালি মাখিয়ে জুতার মালা দিয়ে শ্বশুড় বাড়ি থেকেও বিদায় 

নওগাঁ প্রতিনিধি:  নওগাঁর বদলগাছীতে শ্যালিকাকে বিয়ে করাকে কেন্দ্র করে একের পর এক ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। টিকটকার মাসুদ রানার এই বিয়ে নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। এরপর ফেসবুক লাইভে এসে দর্শকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি। লাইভে দুই বোনকে একসাথে বিয়ে করার ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানেন বলেও মন্তব্য করেন। এ নিয়ে সমালোচনা আরও বাড়ে।

পরে নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী শাহীন কাদির ডলার তাকে নিজের সেরেস্তার কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
এরপর এই পরিস্থিতির মধ্যে বদলগাছী ছাড়তে তিন ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় স্থানীয়রা। পরে ভাড়া বাসার আসবাবপত্র নিয়ে দুই স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মহাদেবপুরের মাতাজি হাট এলাকার নারায়নপুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে আশ্রয় নিতে যান মাসুদ রানা।
সেখানে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে তাকে অবরুদ্ধ করে এবং মুখে কালি ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়।
পরে রাইগাঁ পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে মুক্ত হয়ে দুই স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে সেখান থেকে চলে যান তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ওই রাতেই, রাত ১১টার দিকে বদলগাছীতে আবারও দেখা যায় মাসুদ রানাকে। এ সময় এক সচেতন নাগরিক তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে ভিডিও বার্তায় নিজের কাজের জন্য ক্ষমা চান তিনি। কাজটিকে ভুল স্বীকার করে এক স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং ভবিষ্যতে ওই এলাকায় আর না যাওয়ার কথা জানান।
একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিতর্ক, কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি, এলাকা ছাড়ার পরিস্থিতি এবং শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় নওগাঁ জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে তালাক দেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।