👁 121 Views

মাদারীপুরের প্রাণ শকুনি লেক রক্ষায় ফুঁসে উঠল সচেতন নাগরিক সমাজ: অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দূষণ রোধের দাবি

মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরের ঐতিহাসিক ও সৌন্দর্যের প্রতীক শকুনি লেক রক্ষার্থে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং পানিদূষণ রোধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে শকুনি লেকের পাড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে লেকের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

 এতে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান, ডা. গোলাম সরোয়ার, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি খান মোহাম্মদ শহীদ, এনায়েত হোসেন নান্নু, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ ও বায়জিদ মিয়া প্রমুখ। এছাড়া কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয়— শকুনি লেক বাঁচাও আন্দোলন, পাশে আছি মাদারীপুর, উদীচী মাদারীপুর, অদম্য মাদারীপুর, মাদারীপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, মাদারীপুর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ড, নূরজাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতাল, এপেক্স ক্লাব অব মাদারীপুর, তারুণ্য পরিবার, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, ভোরের হাওয়া ব্যায়াম সংগঠন, লেকভিউ ফিটনেস সোসাইটি, শতায়ু ব্যায়াম সংঘ, উত্তর চিড়াইপাড়া যুব সংঘ এবং টুবিয়া বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শকুনি লেক মাদারীপুর শহরের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক। কিন্তু নানা অব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ দূষণের কারণে এর সৌন্দর্য আজ হুমকির মুখে পড়েছে। তাই লেকের পাড়ে থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে উচ্ছেদ এবং পানিদূষণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

জাহিদ হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, লেক রক্ষায় কেবল সাময়িক নয়, বরং জেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ নাগরিকদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য লেকটিকে একটি নান্দনিক ও দূষণমুক্ত স্থানে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৩৭-৩৮ সালের দিকে পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদীর ভাঙনে মাদারীপুর মূল শহরের অস্তিত্ব যখন বিলীন হচ্ছিল, তখন নতুন শহর স্থানান্তরের জন্য মাটির প্রয়োজন দেখা দেয়। এর প্রেক্ষিতে ১৯৪২-৪৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের মহকুমা প্রশাসন বর্তমান কোর্ট-কাছারি, অফিস ও বাংলো স্থাপনের মাটির চাহিদা মেটাতে এই লেকটি খনন করে। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে পৌরসভার তত্ত্বাবধানে সাড়ে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এর সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়, যা বর্তমানে প্রতিদিনের হাজারো দর্শনার্থীর বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।