👁 381 Views

কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গবেষণা করে আমেরিকায় জুড়ীর নয়নের পিএইচডি অর্জন

জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতাঃ কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ওপর গবেষণা করে আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী মিসিসিপি স্টেট ইউনিভার্সিটি (Mississipi State University) থেকে সফলভাবে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কৃতি সন্তন মিনহাজ উদ্দিন নয়ন। তার এই আধুনিক গবেষণা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রযুক্তি-নির্ভর কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও জীব প্রকৌশল বিভাগ থেকে তিনি এই ডিগ্রি লাভ করেন।
ড. মিনহাজ উদ্দিন নয়ন উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বটুলী গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন এর ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে নয়ন তৃতীয়। তার বাবা কানাইঘাটের গাছবাড়ী জামিউল উলূম কামিল মাদ্রাসার বি.এস.সি শিক্ষক ছিলেন। সেই সুবাধে তিনি গাছবাড়ী মডার্ণ একাডেমী থেকে মাধ্যমিক এবং গাছবাড়ী আইডিয়াল ডিগ্রী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়-এর কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ থেকে ২০১৫-২০১৬ সেশনে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগ থেকে ২০২১-২০২২
সেশনে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় পাড়ি জমান।
তার গবেষণার মূল বিষয় ছিল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফসলের ফলনের তথ্য আরও নির্ভুল করা।
গবেষণা সম্পর্কে ড. মিনহাজ উদ্দিন নয়ন বলেন, “ফসল কাটার আধুনিক যন্ত্র
জমির কোন জায়গায় কত ফলন হয়েছে সেই তথ্য সংগ্রহ করে। তবে কারিগরি
কারণে এসব তথ্যে অনেক সময় ভুল থাকে। আমার গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল
ইন্টেলিজেন্সের মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব ভুল শনাক্ত করা এবং ফলনের সঠিক তথ্যকে জমির নিখুঁত অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করেছি, যাতে কৃষক জমির প্রকৃত ফলন সম্পর্কে শতভাগ সঠিক ধারণা পান।
প্রযুক্তির উপযোগিতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “একই জমির সব জায়গায়
সমান ফলন হয় না। কোথায় ফলন কম বা বেশি হচ্ছে, তা সঠিকভাবে জানা গেলে
কৃষক সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করতে পারেন। এর ফলে সার, পানি ও
অন্যান্য উপকরণের ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব, যা অপ্রয়োজনীয় খরচ ও অপচয় কমিয়ে উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। যুক্তির বিস্তার নিয়ে নয়ন জানান, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার এখনো সীমিত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিতে এর ব্যবহার অনেক বেশি। কৃষিতে যন্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের পদ্ধতি অন্যান্য দেশেও
ছড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এর ব্যবহার বাড়লে নির্ভুল ফলনের তথ্য
কৃষকদের আরও কার্যকরভাবে জমি ব্যবস্থাপনা করতে সহায়তা করবে।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ড. নয়ন বলেন, “আমার পরবর্তী পরিকল্পনা হলোb স্টডক্টরাল গবেষণায় যোগ দিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করা। এরপর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।তিনি আরও যোগ করেন, “ভবিষ্যতে কৃষিতে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনায় এআই কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে আমি দীর্ঘমেয়াদী
কাজ করতে চাই। বিশেষ করে, মাঠের তথ্য বিশ্লেষণ করে কৃষকদের ফসল উৎপাদন, সার ও পানির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করাই আমার লক্ষ্য, যাতে গবেষণার ফল সরাসরি কৃষকের বাস্তব প্রয়োজনের কাজে আসে। কৃতি এই গবেষকের সাফল্যে তার পরিবার মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন এবং তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল ও সাফল্যময় কর্মজীবনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।