
পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা: গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ও রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পাঁচ শতাধিক কৃষক। ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট আমন রোপণের উপযুক্ত সময় পার হলেও অতিরিক্ত পানির কারণে অনেক জমিতে এখনো চারা রোপণ করা সম্ভব হয়নি। এতে চলতি মৌসুমে অনেক জমি অনাবাদি পড়ে থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, রাধাকৃষ্ণপুর, ভেলাকোপা ও পাকড়িছিড়া ব্রিজের উত্তর-দক্ষিণ এলাকার মাঠে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে আছে। কোথাও কোমরসমান, কোথাও হাঁটুর ওপর পানি। অনেক জমি কচুরিপানায় ভরে গেছে। অথচ আশপাশের গরদিঘি, রহমতপুর, গোপালপুর, ত্রিমোহিনী, বাদিয়াখালী ও পেয়ারাপুর এলাকার অধিকাংশ জমিতে আমন রোপণ শেষ হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, কাদের মিয়ার বাড়ি থেকে ভেলাকোপা হয়ে পূর্ব হরিপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় কোনো নালা না থাকায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। একসময় সেখানে নালা থাকলেও প্রায় তিন দশক আগে বন্যার পর তা ভরাট হয়ে যায়। পরে সংস্কারের অভাবে নালাটি অচল হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে নালার অংশ ভরাট হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এ ছাড়া পানি চলাচলের পথে এসকেএস ফাউন্ডেশনের ভবন ও প্রাচীর নির্মাণ এবং অপর্যাপ্ত পাইপ ব্যবহারের কারণেও পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, প্রতিবছরই বীজতলা নষ্ট হওয়া, চারা পুনরায় রোপণ এবং ফসল নষ্ট হওয়ার কারণে তাদের বাড়তি খরচ গুনতে হয়। গত বছরও অনেক কৃষক দুই দফা চারা রোপণ করেও ফলন পাননি। আমন ছাড়াও ইরি মৌসুমের ধানও কখনো কখনো পানিতে নষ্ট হয়।
কৃষকদের দাবি, দুই পাশের বিদ্যমান নালার সঙ্গে সংযোগ করে মাঝের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশে নতুন নালা খনন করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে আমন, ইরি ও বর্ষালী—তিন মৌসুমেই চাষাবাদ করা সম্ভব হবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ওই এলাকায় খাল খনন জরুরি। ১৫ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট আমন রোপণের উৎকৃষ্ট সময়। দেশি জাতের ধান আরও প্রায় ১৫ দিন রোপণ করা গেলেও এরপর ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু জানান, কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক বলেন, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কৃষকদের সমস্যাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।