👁 398 Views

ঘোড়াঘাট, পলাশবাড়ী দুই থানার সীমানা ফলক নির্মাণকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

 

ঘোড়াঘাট প্রতিনিধি:-
দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা, গাইবান্ধার জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার দুই থানার সীমানা ফলক নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানিয় এলাকাবাসী অভিযোগ পুরোনো সীমানার ফলক প্রায় ৫০০ মিটার দুরে থাকার পর আবার নতুন করে নির্ধারীত স্থান থেকে ৫০০ মিটার সরে নতুর করে সিমানা তোলার অভিযোগ করছে এলাবাসী।

পরিদর্শন করেন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় শতাধিক বাসিন্দা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের প্রচলিত সীমানা এবং আগে স্থাপন করা সীমানা ফলককে পাশ কাটিয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার ভেতরে গিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলার নতুন সীমানা ফলক নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরকারি নথিতে দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত থাকার পরও কীভাবে সেই সীমানার প্রায় ৫০০ মিটার ঘোড়াঘাট উপজেলার ভেতরে গিয়ে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাবাসী।

তাদের দাবি, সীমানা পরিবর্তন হয়ে থাকলে এর পক্ষে সরকারি আদেশ, প্রজ্ঞাপন বা গেজেট রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে।

সম্প্রতি ঘোড়াঘাট-পলাশবাড়ী আঞ্চলিক সড়কের করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতু পার হওয়ার আনুমানিক ১০০ মিটার পূর্ব দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা শেষ হয়ে গাইবান্ধার জেলা পলাশবাড়ী উপজেলা শুরু। স্থানীয়দের দেখানো তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই একটি পুরোনো সীমানা ফলক রয়েছে। এতদিন সেটিই দুই জেলা ও উপজেলার সীমানা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।

সাবেক ঘোড়াঘাট পৌর কাউন্সিলর আব্দুল মমিন বলেন, ‘আগে থেকেই দুই উপজেলার সীমানা নির্ধারিত রয়েছে। এরপরও কাউকে না জানিয়ে পুরোনো সীমানা ফলক না মেনে পৌরশহরের প্রায় ৫০০ মিটার ভেতরে নতুন করে সীমানা ফলক তৈরি করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুরোনো সীমানা ফলক অনুযায়ী করতোয়া সেতু, সেতুর ওপারে একটি শ্মশানঘাট এবং সড়কের পাশের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ঘোড়াঘাট পৌরসভার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু নতুন সীমানা ফলক কার্যকর হলে সেতু, শ্মশানঘাট, কয়েকটি রেস্টুরেন্ট এবং সেতুর এ পাশের কয়েকটি বসতবাড়িও পলাশবাড়ী উপজেলার সীমানার মধ্যে পড়ে যাবে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ বলেন, ‘পূর্বের সীমানা ফলককে মাথায় রেখে প্রশাসনিক সীমানাসংক্রান্ত নথি, মৌজা ম্যাপ ও ভূমি রেকর্ড পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সার্ভেয়ার দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করা হবে।’

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, ‘সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানাব। আশা করছি, এর একটি সুষ্ঠু সমাধান হবে।’

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তি রয়েছে শুনেছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করে এর কোনো সমাধান করা যায় কি না, তা দেখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু স্থাপনাটি ইতোমধ্যে দাঁড়িয়ে গেছে, তাই অর্থের অপচয় না করে এক পাশে ‘স্বাগতম ঘোড়াঘাট’ এবং অন্য পাশে ‘স্বাগতম পলাশবাড়ী’ লেখা যায় কি না, সে বিষয়েও সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থানীয়রা না চাইলে সেটিও করা হবে না।’

এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার না করা হলে ভবিষ্যতে শুধু সীমানা নিয়ে বিতর্কেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পড়তে পারে জমির মালিকানা নির্ধারণ, সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, রাজস্ব আদায়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *