
আশিকুর রহমান সবুজ, শ্রীপুর (গাজীপুর): ভার্চুয়াল জগতের রঙিন প্রলোভনে পড়ে ঘর ছেড়েছিল দুই কিশোরী বোন। টিকটকের মায়াজাল ছিন্ন করে অচেনা গন্তব্যে পা বাড়ানো সেই দুই বোনকে দ্রুত প্রশাসনিক তৎপরতায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর গত মঙ্গলবার তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরী হলো—গাজীপুরের শ্রীপুরের পূর্ব নিজ মাওনা গ্রামের সোহেল রানার দুই কন্যা সানজিদা (১৪) ও আতিয়া (১৩)। সানজিদা গাজীপুর উচ্চবিদ্যালয়ে এবং আতিয়া পূর্ব নিজ মাওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার হঠাৎ করেই তারা নিখোঁজ হয়। কোনো পারিবারিক অশান্তি নয়, বরং ভার্চুয়াল দুনিয়ার প্রলোভনে পড়ে তারা ঘর ছাড়ে। পথ ভুলে তারা একপর্যায়ে জামালপুর জেলায় পৌঁছে যায়। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের অসহায় অবস্থায় দেখে জামালপুরের ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ শেল্টার হোমে থাকার ব্যবস্থা করেন এবং ফেসবুকে বিষয়টি প্রচার করেন।
ফেসবুক পোস্টটি নজরে এলে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ ইউসুফ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করেন। গাজীপুরের ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়াকে মেয়ে দুটির নাম-ঠিকানা ও পরিবার শনাক্ত করার নির্দেশনা দেন। ইউএনও দ্রুততার সাথে স্থানীয়ভাবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করে বিষয়টি মা-বাবাকে জানান।
পরবর্তীতে উভয় জেলা প্রশাসকের সমন্বিত উদ্যোগে গত মঙ্গলবার জামালপুর থেকে তাদের উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, “মেয়ে দুটি নিরাপদে ফিরেছে, এটিই বড় স্বস্তি। প্রশাসনিক তৎপরতায় তাদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে দুটির পড়াশোনা যাতে অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, সেজন্য ইউএনও-কে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার এবং অভিভাবক সচেতনতার চরম ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু প্রশাসনিক সহযোগিতা নয়, বরং সন্তানদের স্মার্টফোনের ব্যবহার ও তাদের বন্ধুত্বের পরিধি সম্পর্কে অভিভাবকদের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। টিকটক বা অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আড়ালে থাকা ফাঁদ সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করাই এখন সময়ের দাবি।