
মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি- : ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নে মশারির ভেতরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিষধর সাপের কামড়ে মিকাইল (১৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ভোররাতে উপজেলার ৬ নম্বর গান্না ইউনিয়নের কুটি দুর্গাপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মিকাইল ওই গ্রামের মোঃ আশরাফুলের ছেলে। হাসপাতালে সরকারের নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী ১০ ভায়াল জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রাতে নিজ ঘরে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন মিকাইল। মধ্যরাতের দিকে একটি বিষধর সাপ মশারির ভেতর ঢুকে তাকে দংশন করে। মিকাইলের চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে এসে বিছানা থেকে একটি বিষধর গোখরা সাপ উদ্ধার করে। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা সাপসহ মিকাইলকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোররাতের দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের (সুপার) সাথে কথা বলে জানা যায়, রোগীকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকরা সরকারের প্রমিত প্রটোকল অনুযায়ী ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম (Anti-venom) পুশ করেন। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় এবং বিষের তীব্রতা মারাত্মক থাকায় অ্যান্টিভেনম পুরোপুরি কাজ করার আগেই রোগীর শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে।
হাসপাসতাল সুপার আরও জানান, গোখরা সাপের নিউরোটক্সিক বিষ অত্যন্ত দ্রুত রোগীর স্নায়ুতন্ত্র ও ফুসফুসের শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিগুলোকে অচল করে দেয়। চিকিৎসকরা তাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তবে বিষক্রিয়া শরীরে ছড়িয়ে পড়ে রোগীর ফুসফুস অচল হয়ে যাওয়ায় ১০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পরও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো জানিয়েছেন ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যান্টিভেনম সরবরাহ রাখা হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, সাপে কাটার পর শুধু অ্যান্টিভেনম থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং রোগীকে কত দ্রুত হাসপাতালে আনা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন (লাইফ সাপোর্ট) দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কিনা, তার ওপরই রোগীর বেঁচে থাকা নির্ভর করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে পুরো কুটি দুর্গাপুর গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বর্ষা ও গরমের মৌসুমে সাপের উপদ্রব থেকে বাঁচতে মশারির চারপাশ তোশকের নিচে ভালো করে গুঁজে দেওয়া এবং ঘরের চারপাশ সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।