
ঘোড়াঘাট প্রতিনিধিঃ-
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে হাসপাতালের শয্যায় টানা ১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করেছেন এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। কেউ জানতেন না তার নাম, ঠিকানা কিংবা পরিবারের পরিচয়। চিকিৎসক, পুলিশ ও স্থানীয় মানুষের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে অবশেষে তার মৃত্যু হয়। এরপর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে মিলেছে তার পরিচয়।
মৃত ব্যক্তি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা কাছারী ছোটকুয়া গ্রামের বাসিন্দা সেরাজুল ইসলাম (৫০)। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা স্বজনকে জীবিত নয়, মরদেহ হিসেবে ফিরে পেয়েছে তার পরিবার।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে রংপুর ক্রাইম সিন ইউনিটের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে ঘোড়াঘাট উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজার এলাকায় ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা মানবিক কারণে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি খাবার, ওষুধ এমনকি স্যালাইনও নিতে অস্বীকৃতি জানান। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন খাবার গ্রহণ না করায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে মৃত্যু কলে ঢলে পরেন ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, থানা পুলিশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্তে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হলেও জীবিত অবস্থায় কোনো স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, । তার স্ত্রী বাকপ্রতিবন্ধী এবং তাদের কোনো সন্তান নেই। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাড়িতেও ঠিকমতো খাবার খেতে চাইতেন না। মাঝেমধ্যেই কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। এবারও সেভাবেই বের হয়ে আর জীবিত ফিরে আসেননি।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু বলেন, ‘হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই সেরাজুল ইসলামের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক। চিকিৎসক ও নাসরা বহুবার চেষ্টা করেও তাকে খাবার, ওষুধ কিংবা স্যালাইন গ্রহণ করাতে পারেননি। দীর্ঘদিন খাবার গ্রহণ না করায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।’
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুর পর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।