
স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ বগুড়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ টা স্পট ডেথ(দুর্ঘটনা স্থানে মৃত্যু)তাদের নাতি জুলকার নাঈম(৯)বছর পা ভাঙ্গা রক্তক্ষরণ এক দম( paper white) (Haemorrhagic shock) । আজ শুক্রবারের দিন কাহালু উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে জরুরী ডিউটি শেষ করে আমি আর সাইফুল ভাই দরগাহাট বিমানবন্দর হয়ে বগুড়া আসার সময় নওগাঁ বগুড়া মহাসড়কে হোন্ডা মাইক্রো মুখোমুখি সংঘর্ষে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দাদা দাদী সহ দুইজন নিহত এবং তাদের নাতি গুরুতর আহত।
নিহতরা হলেন বগুড়া সদরের আটাপাড়া এলাকার জেসমিন আরা বেগম(পুতুল)তার স্বামি নিহত বাবুল এবং তার ৯ বছর বয়সী নাতি জুলকারনাইম। সে বগুড়া ফ্লাওয়ার হেভেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। জুলকার নাইমের বাবা রেজাউল করিম (রেজা).জানা গেছে বগুড়া থেকে তারা নানা নানীর বাড়িতে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।পথিমধ্য বিমানবন্দর এলাকায় নওগাঁ বগুড়া মহাসড়কের তাদের বহনকারী হোন্ডা মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নানা নানির মৃত্যু হয় এবং নাতি জুলকার নাঈম গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাছ থেকে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে বাচ্চার কাপড় ছিড়ে গেছে কি আর করা বাচ্চার নানি মৃত ব্যক্তির কাপড় ও পা ভাঙা রক্তক্ষরণ চেপে ধরে অ্যাম্বুলেন্সে বাচ্চার নানি মৃত ও বাচ্চা জুলকার নাঈম কে তুলে নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ক্যাজুয়ালিটি তে নিয়ে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক
ওয়ার্ড বয় ও আলহামদুলিল্লাহ আমাদের সবার অক্লান্ত চেষ্টাই সবাই মিলে রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করা ( সার্জারি) করা + blood manage+ভাঙ্গা পায়ে ট্রাকশন + catheter সহ সার্বিক চিকিৎসা করা হয়।
ততক্ষণে ও রোগীর কোন অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার নাই চিনি না জানি না বাচ্চাটি বলতেও পারেনা পরিবারের কারো মোবাইল নাম্বার। বাচ্চাটি বলে আঙ্কেল আমাকে বাঁচান শ্বাসকষ্ট হচ্ছে আর একদম খারাপ অবস্থা। আমি নিজেই অভিভাবক হয়ে বাচ্চাটিকে ভর্তি করেছিলাম ও বাচ্চাটির নানি( মৃত) ও ২ হাতে কানে গহনা খেয়াল রাখতে হয়েছে যেন চুরি না হয় আর জরুরি বিভাগে তো ভালো-মন্দ লোকের আনাগোনা আর ততক্ষণেও কোন অভিভাবক আসেনি। একই জায়গায় সকাল বিকাল দুর্ঘটনা খবর ফেসবুকে লাল অবশেষে বাচ্চাটির অভিভাবক মামা (সাইফুল ভাইয়ের বন্ধু)ও আত্মীয়-স্বজন আসলে বাচ্চাটিকে তাদের কাছে বুঝে দেই।
অবশেষে বলতে হয়
জীবন জীবনের জন্য মানুষ মানুষের জন্য
একটু সহানুভূতি কি পেতে পারে না?
কর্তব্যরত ডা:+ ইন্টার্ন ডা:রা +নার্স রা +খালা ওয়ার্ড বয় সবাই বাচ্চাটার জন্য অক্লান্ত চেষ্টা করেছেন।
পা ভাঙ্গা( FRACTURE Femour) (R) + (DIP INGUINAL REGION LACERATED INGURY ) + multiple ingury
(Operation done) রক্তক্ষরণ জনিত বাচ্চা দেরি না করে জরুরীভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বগুড়া নিয়ে আসায় বাচ্চাটি সুস্হ জীবন ফিরে পাবে বলে ডা: গন আশা করেন ইন্সাআল্লাহ( চিকিৎসা চলছে)।জীবন দেওয়ার মালিক আল্লাহ আমরা শুধু চেষ্টা করতে পারি মাত্র।
বাচ্চাটির সুস্হতার জন্য সবাই দোয়া করবেন আর এই বাচ্চার মৃত দাদাদাদির জন্য সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন!একসাথে দুইটা মৃত্যু পরিবারের সকলকে শোক সইবার তৌফিক দান করুন।