👁 447 Views

ফুলবাড়ী হাসপাতালে ডায়াবেটিসের ওষুধ সংকট, বিপাকে নি¤œ-আয়ের রোগীরা

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়াবেটিস রোগের ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মেটফরমিন ও গ্লাইক্লাজাইড-এর মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নি¤œ-আয়ের রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে ওষুধ সংগ্রহ করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এলাকার অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। সামর্থ্যবান রোগীরা বেসরকারিভাবে ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করালেও নি¤œ-আয়ের রোগীদের ভরসার জায়গা এই হাসপাতাল।

অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল রোগীদের জন্য এখানে সরকারি উদ্যোগে একটি ডায়াবেটিস কর্নার চালু রয়েছে। এ কর্নার থেকে রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে থাকেন। প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী এ কর্নারে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। গত জুলাই মাসে ৬৫৭ জন রোগী এখান থেকে সেবা নিয়েছেন। এতদিন প্রতিটি রোগীকে এক মাসের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হলেও গত ২১ জুলাই থেকে ওষুধের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে কোনো রোগীকেই ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে অনেকেই খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।

ডায়াবেটিস কর্নারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্টাফ নার্স খাদিজা আফরোজ বলেন, “ডায়াবেটিসের ওষুধের সরবরাহ বন্ধ থাকায় রোগীদের ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ওষুধ পেলেই আবার বিতরণ শুরু করা হবে।”

চিকিৎসা নিতে আসা শিরিনা আক্তার, সখিনা বেগমসহ কয়েকজন রোগী বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। এখান থেকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়ে অনেক উপকার হতো। এখন হাসপাতালে এসে শুনছি ওষুধ নেই। কবে আসবে তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে বেশি দামে

ওষুধ কিনতে হচ্ছে। দ্রুত ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে ডায়াবেটিসের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ মেটফরমিন ও গ্লাইক্লাজাইডের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমাদের মজুতও শেষ হয়ে গেছে। নিজস্ব তহবিল থেকে ওষুধ কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ওষুধ সংগ্রহ করতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে। তবে আগের তুলনায় সীমিত পরিমাণে রোগীদের মধ্যে ওষুধ বিতরণ করা সম্ভব হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *