👁 355 Views

ঘোড়াঘাটে নারীর শিক্ষার আলোকবর্তিকা রাণীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ

 

ঘোড়াঘাট, প্রতিনিধিঃ-
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নারীর শিক্ষা আলোকবর্তিকা রাণীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ। কলেজটি ১৯৯৪ সালে উপজেলার রাণীগঞ্জ বাজারের হাপ কিঃ মিঃ-ডুগডুগি হাট সড়কের পাশে অবস্থিত। এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় একসময় উচ্চশিক্ষা ছিল গ্রামীণ জনপদের অনেক মেয়ের কাছে এক অধরা স্বপ্ন।

দূরের কলেজ, আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা থেমে যেত এসএসসি কিংবা এইচএসসির গতিতেই। সেই বাস্তবতায় আশার আলো হয়ে আত্মপ্রকাশ করে উপজেলার রাণীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ।

প্রায় তিন দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটি শুধু পাঠদানই নয়, নারী শিক্ষা, আত্মবিশ্বাস ও ক্ষমতায়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। । সময়ের পরিক্রমায় এটি আজ উত্তরাঞ্চলের অন্যতম পরিচিত নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে উ”চ মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাঠদান চলছে।

কলেজটিতে বর্তমানে ৬২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। গত তিন বছরে এইচএসসি ও স্নাতক পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে আসছে। এখানকার অনেক প্রাক্তন

শিক্ষার্থী বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তর,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক,বিমা ও অন্যান্য পেশায় দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সাফল্য নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। পাঠ্যসূচির গন্ডির বাইরে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও আত্মনির্ভরশীলতা গড়ে তুলতে নিয়মিত সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ফলে একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলই নয়, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে ওঠার সুযোগ পায়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসে দৃষ্টিনন্দন পুকুরঘাট নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এছাড়াও কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষা প্রকৌশলের অধিনে প্রায় দেড় কোটি টাকার মূল্যের একটি ভবন নির্মাণের অনুমোদন হয়েছে।

বর্তমানে কলেজটিতে সহকারী অধ্যাপক ২৩জন, প্রভাষক ১০জন কর্মরত রয়েছেন। পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সাবেক “সচিব মো. দলিল উদ্দিন মন্ডলের

দিকনির্দেশনায় কলেজের সার্বিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সচেতন মহল ও অভিভাবকদের ভাষ্য, এই কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে গ্রামীণ গবির পরিবারের মেয়েদের উ”চশিক্ষার পথ অনেক সহজ হয়েছে। নিরাপদ পরিবেশ, নিয়মিত ক্লাস এবং ভালো ফলাফলের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় ব্যাপক আস্থা ও সুনাম অর্জন করেছে।

তাদের দাবী প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং নারী শিশু ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন কলেজটি জাতীয়করণের উদ্যোগ নিলে উত্তরাঞ্চলের হাজারো মেয়ের উ”চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে শিক্ষকগন আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ধ্বীরাজ সরকার বলেন, শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে কলেজের ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষক বৃন্দ নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। গ্রামীণ নারীদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার যে স্বপ্ন নিয়ে রাণীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল, প্রায় তিন দশক পরও সেই স্বপ্নের পথচলা থেমে নেই। বরং প্রতিটি সফল শিক্ষার্থীর হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটি প্রমাণ করে চলেছে সুযোগ পেলে গ্রামের মেয়েরাও দেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় সমানভাবে নেতৃত্ব দিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *