👁 202 Views

বন্দর ইজারা ইস্যুতে সরকারকে জনগণের কথা শুনতে হবে: বন্দর রক্ষা কমিটি

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ এনসিটি-সিসিটিসহ কোনো স্থাপনা ইজারা না দেওয়ার দাবি, ১৫ আগস্ট নাগরিক কনভেনশনের ঘোষণা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, সিসিটিসহ অন্যান্য স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ থেকে সরকারকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বন্দর ইজারার প্রশ্নে সরকারকে অবশ্যই জনগণের কথা শুনতে হবে এবং জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
০৩ আগস্ট(সোমবার) দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রাম। কর্মসূচির আগে বাদামতলী মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে বন্দর রক্ষার আন্দোলন চলছে এবং শ্রমিকরা কোনোভাবেই বন্দর ইজারা দিতে দেবেন না। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের উচিত জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে অতীতের মতো রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। জনগণের অর্থে নির্মিত কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি অভিযোগ করেন, বন্দর পরিচালনায় কর্তৃপক্ষের অদক্ষতার দায় শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে ইজারার পথ তৈরি করা হচ্ছে। এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, একই দাবিতে আগামী ১৫ আগস্ট একটি নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
ডক বন্দর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন সেলিম বলেন, সরকারকে বিব্রত করতে নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যেই এ আন্দোলন। তার দাবি, বন্দর পরিচালনায় দেশীয় জনবলই যথেষ্ট সক্ষম এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই।
টিইউসির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর সরকারের নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হওয়া উচিত। তার ভাষ্য, বন্দর দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই কোনো অবস্থাতেই এটি বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সমাবেশে শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *