
নাটোর প্রতিনিধি ;; নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মোমিনপুর গ্রামে স্বামী কালুকে হত্যার দায়ে স্ত্রী সালমা বেগম ও তার পরকিয়া প্রেমিক আহম্মদ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ডাদেশের আদেশও দেন আদালত।
সোমবার বিকেলে নাটোর অতিরিক্ত দায়রা ও জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোঃ সাইফুল ইসলাম আসামীদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষনা করেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নলডাঙ্গা উপজেলার মোমিনপুর গ্রামের মৃত কালুর স্ত্রী সালমা বেগম (৩৫) ও পরকিয়া প্রেমিক আহম্মদ আলী (৪২) একই এলাকার মৃত সোহরাব হোসেন তুলার ছেলে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ২২-২৩ বছর পূর্বে কালু ও সালমা বেগমের বিবাহ হয়। তারপর থেকে তারা সংসার করে আসছিলেন। একপর্যায়ে সালমা বেগমের সাথে প্রতিবেশি আহম্মদ আলীর পরকিয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে।
গত ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে সালমা বেগম ও তার পরকিয়া প্রেমিক আহম্মদ আলী যোগসাজশ করে কালুকে নাকে মুখে আঘাত করে পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। এঘটনায় পরের দিন মৃত কালুর মা বাদি হয়ে ছেলের স্ত্রী সালমা বেগম ও আহম্মদ আলীকে আসামী করে নলডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করে।
তারপরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
নাটোর জজ কোর্টের সরকারী কৌশুলি অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন তালুকদার টগর জানান, দীর্ঘ শুনানি ও স্বাক্ষ্য প্রমান শেষে আসামীদের দোষ সন্দেহাতিত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত মৃত কালুর স্ত্রী সালমা বেগম ও তার পাকিয়া প্রেমিক আহম্মদ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাস সশ্রম কারাদন্ডাদেশের কথা উল্লেখ করেছেন। এমন রায়ে রাষ্ট্র পক্ষ সন্তুোষ প্রকাশ করেছেন।