
রংপুর ব্যুরো: জ্ঞানভিত্তিক, সচেতন ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে রংপুরে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পাঠক সমাবেশে। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে শিশু-কিশোরদের বইমুখী করে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রংপুর বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার মিলনায়তনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম মাধ্যম হলো বই। তাই নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করতে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মোবাইল ফোনের আসক্তি থেকে তাদের দূরে রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেকে তথ্যসমৃদ্ধ, দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। জ্ঞান, সংস্কৃতি ও সাহিত্যচর্চা বিকাশে গণগ্রন্থাগারকে কেন্দ্র করে নিয়মিত পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চার আয়োজন বাড়ানোরও আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। অথচ বই মানুষের চিন্তাশক্তিকে সমৃদ্ধ করে, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং একাকীত্ব দূর করতে সহায়তা করে। তাই ইতিবাচক জীবন গঠনে বই পড়ার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সবাইকে নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) ও দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের পরিচালক মুঃ বিল্লাল হোসেন খান এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (উন্নয়ন ও আইসিটি) ডা. সঞ্জীব সূত্রধর।
সমাবেশে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পরে অতিথিরা বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ভ্রাম্যমাণ বইমেলা পরিদর্শন করেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
এর আগে জেলা প্রশাসন কার্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।