👁 165 Views

শার্শার তরুন উদ্যোক্তা তাসনিম জুবায়ের মাত্র ১৮ বছর  বয়সেই গড়ে তুলেছেন প্রায় ৬০ লাখ টাকার দুম্বার খামার

আব্দুল মান্নান, শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা ॥ মরুর প্রাণী হলেও যশোরের শার্শার নিভৃত গ্রামে দুম্বা পালন করে সফল হয়েছে তাসনিম জুবায়ের(১৮) নামে এক যুবক। মাত্র ৭টি দুম্বা দিয়ে খামার শুরু করে তার খামারে এখন রয়েছে ৩০টি দুম্বা। রোগবালাই কম হওয়ায় এবং খাবার খরচ সাশ্রয়ী হওয়ায় তিনি দ্রুত সফলতার মুখ দেখেছেন। স্বপ্ন দেখার সাহস, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে অল্প বয়স যে কোনো বাঁধা হয়না তার প্রমাণ করেছেন তাসনিম জুবায়ের। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে।বর্তমানে খামারের দুম্বা গুলোর মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের শ্রম, সময় ও মেধা দিয়ে গড়ে তোলা তার দুম্বার খামার ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাসনিম জুবায়ের যশোরের শার্শা উপজেলার রাড়ীপুকুর গ্রামের বিদেশফেরত বাবলু রহমানের ছেলে তাসনিম জানান, ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করতে গিয়েই ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে দুম্বা পালনের প্রতি আগ্রহ জন্মায় তার। এরপর বাবার উৎসাহ ও আর্থিক সহযোগিতায় ২০২৪ সালে নাটোরের বনপাড়া এলাকা থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭টি দুম্বা কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত পরিচর্যা ও নিরলস পরিশ্রমের ফলে অল্প সময়েই তার এই উদ্যোগ একটি লাভজনক খামারে পরিণত হয়। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে প্রায় ৩০টি উন্নত জাতের দুম্বা। এগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সুষম খাদ্য প্রদান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত যত্নের কারণে দুম্বাগুলো সুস্থ ও দ্রুত বেড়ে উঠছে। জানাগেছে,পড়াশোনার পাশাপাশি খামারের প্রতিটি কাজ নিজেই তদারকি করেন তাসনিম। তার সাফল্যের গল্প জানতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে আগ্রহী মানুষ খামারে ছুটে আসছেন। অনেক তরুণ তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে দুম্বা পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। ভবিষ্যতে গ্রাম পর্যায়ে দুম্বা পালন সম্প্রসারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ছেলের এমন সাফল্যে গর্বিত বাবা বাবলু রহমান বলেন,ইউটিউব দেখে তাসনিমের আগ্রহ তৈরি হয়। তার আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে আমি শুরুতেই পাশে দাঁড়াই। আজ তার সাফল্য আমাকে গর্বিত করে। শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তপু কুমার সাহা বলেন,নিয়মিত তদারকি, ভ্যাকসিন, কৃমিনাশক ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।দুম্বা পালন একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক খাত। তাসনিম জুবায়েরের খামার নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সফল উদাহরণ হতে পারে।অল্প বয়সে এমন উদ্যোগ ও সাফল্য নিঃসন্দেহে দেশের তরুণ সমাজের জন্য এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *