👁 271 Views

৪০ বছরেও স্থাপিত হয়নি স্বাস্ত্য কেন্দ্র ভোলার চরফ্যাশনের-মোতাহার-নিউলিন-সিকদারের ২০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নেই ঝুকিতে তাদের জীবন

ভোলা প্রতিনিধি ; ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় নদীবেষ্টিত তিনটি দ্বীপচর-মোতাহার,নিউলিন ও সিকদারে বসবাস কারী প্রায় ২০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। ওই চরে ৪০ বছরেও স্থাপিত হয়নি স্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র,নাই চিকিৎসক ও নার্স। জরুরী চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাচ্ছেন রোগীরা এমন অভিযোগ স্থানীয় ভুক্ত ভুগীদের। চরে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও সময় মত স্বাস্থ্যসহকারী ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়া যায়না। সকল প্রকার রুগীর জন্য প্যারাসিটামল ঔষধ ছাড়া আর কোন ঔষধ মিলেনা। প্রিয়ড (মাসিক) কাহাকে বলে জানেননা ওই চরের কিশোরী, যুবতী এবং গৃহবধুরা। কারন ওই চরে বাল্য বিয়ের প্রচলন বেশী, তাদের ধারনা মেয়ে মানুষের এরকম হয়ে থাকে।
সরজমিনে জানা গেছে,তেঁতুলিয়া নদীর বুকে জেগে ওঠা চর সিকদার, চরমোতাহার ও চর নিউলিন। এই তিনটি চরে নেই কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। চিকিৎসার একমাত্র ভরসা কয়েকটি ফার্মেসির চিকিৎসক। ফলে সাধারণ রোগেও মানুষ ঝাড়ফুঁক বা লোকাল চিকিৎসার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন।
প্রায় ৬ হাজার ৪৩৭ একর আয়তনের এই দ্বীপচরগুলো সম্পূর্ণভাবে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। যোগা যোগের একমাত্র মাধ্যম খেয়া নৌকা। চরের অধিকাংশ মানুষ জেলে ও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত হলেও ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের স্বাস্থ্য খাতের অবহেলায় এখানকার জীবনযাত্রা দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
জরুরী রোগীর ক্ষেত্রে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়াই একমাত্র উপায়। তবে নদীপথে খেয়া পার হতে হয় বলে প্রতিকূল আবহাওয়া, তীব্র স্রোত কিংবা নৌযানের স্বল্পতায় অনেক সময় রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। বিশেষ করে রাতের বেলায় গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে নদী পার হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। জরুরী রোগী পরিবহনের জন্য নেই কোনো নৌ-অ্যাম্বুলেন্স।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। গর্ভকালীন পরীক্ষা,নিরাপদ প্রসব কিংবা নবজাতকের চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক নারী ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতেই শন্তান প্রসব করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়রা জানান,এতে মা ও নবজাতকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পাশা-পাশি শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর ও অপুষ্টির হারও বাড়ছে। কারন ওই চরে বাল্য বিয়ের প্রচলন বেশী থাকায় মা ও শিশুরা সবাই অপুষ্টিতে ভুগছেন।
চরের বাসিন্দা ফজল মাঝি বলেন, প্রায় চার দশক ধরে বসবাস করলেও এখানে কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন হয়নি। গুরুত্বর অসুস্থ্য হলে সময়ন মতো হাসপাতালে নেওয়া যায় না,ফলে প্রতিনিয়ত যন্ত্রনার মধ্যে দিন কাটে। গৃহিনী কুলসুম বলেন, গভীর রাতে প্রসব বেদনা উঠলেও নদী পার হতে না পারায় ঝুঁকি নিয়ে ঘরেই সন্তান প্রসব করাতে হয়। আর জন্ম নিয়ন্ত্রন এবং মাসিক কি তা জানেননা এই চরের ৯০ ভাগ কিশোরী, যুবতী ও গৃহবধুরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ,বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও তারা কার্যকর উদ্যোগ নেননি। সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মনির হাওলাদার বলেন, এই চরে জরুরী ভিত্তিতে একটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করে স্থায়ী চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ এবং জরুরী রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেয়া এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন-চরগুলোর মধ্যে মানুষের সংখ্যা বেশী থাকায় অনেক সময় সঠিক ভাবে চাহিদা মত স্বাস্থ্য সেবা পায়না। তাদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার অবহিত করা হয়েছে, সামনে যখন বর্ষা রয়েছে,তখন আরোবেশী করে স্বাস্থ্য সেবার উপকরনের বিষয়ে বলা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *