
বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে পাবনায় ‘গণতন্ত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টায় পাবনা শহরের প্রধান সড়কে ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইট মনিটরিং অফিসারের (ডিএইচআরএমও) কার্যালয়ে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)-এর সহযোগিতায় এবং বাঁচতে চাই সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রবীণ সাংবাদিক ও ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের (ডিএইচআরডিএন) আহ্বায়ক আব্দুল মতীন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য দেন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী প্রধান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন বাঁচতে চাই’র নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রব মন্টু।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় পর্ব শেষে সংলাপের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইট মনিটরিং অফিসার কামাল আহমেদ সিদ্দিকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান,এমপাওয়ারমেন্ট প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর নাজনীন শবনম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, সাংবাদিক উৎপল মির্জা এবং সৈকত আফরোজ আসাদ।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ হুমায়ুন কবির তপু, দৈনিক নতুন বিশ্ববার্তার সম্পাদক শহীদুর রহমান শহীদ এবং দৈনিক ইছামতির প্রধান প্রতিবেদক ছিফাত রহমান সনমসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, একটি কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। গণতন্ত্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সদিচ্ছা, জবাবদিহিতা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, মানবাধিকার রক্ষায় সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক চাপের কারণে অনেক সময় সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বক্তারা গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা ও আর্থিক সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সরকার ও গণমাধ্যম মালিকপক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘মানবাধিকার সাংবাদিক নেটওয়ার্ক’ গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এর সফল বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সংলাপে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং টেলিভিশনের মোট ২৭ জন গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে পাবনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সন্মেলনে পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ জানান বুধবার ভোর রাতে ভিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (০৯ জুন) নিহত হোসেন আলীর স্ত্রী আফসানা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। গত সোমবার সন্ধায় পাবনা শহরের মাসুম বাজার এলাকায় জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসায় ছেলেকে রাখতে গিয়ে মাদ্রাসার গেটে ছেলের সামনে হোসেন আলীরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বুত্তরা।