
ভোলা প্রতিনিধিঃ ভোলা জেলা সদরের প্রেসক্লাবের সামনে,দুনিয়ার মজদুর এক হও,নৌ-পথে জাহাজী শ্রমিক এক হও’ এই শ্লোগানে ভোলা মেঘনার নৌ-পথে চলাচলকারী বাল্কহেড জাহাজী শ্রমিকদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন এবং শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন -ভোলা জেলা শাখার আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ভোলা জেলা অতিক্রম করে সী-বিচ চরপাড়া ও চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন নৌ-পথে চলাচলকারী বাল্কহেড জাহাজ ও নৌ-শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত জুলুম, চাঁদাবাজি ও ডাকাতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ভোলার ইলিশা ও তুলাতলী ঘাট এলাকায় (কথিত পাইলট) নামধারী একদল দুর্বৃত্ত বাল্কহেড শ্রমিকদের আটকে রেখে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে শ্রমিকদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন।
বক্তারা বলেন, এই সন্ত্রাসের মূল হোতা চর খেকো ও জলদস্যু চকেট জামাল। তার নেতৃত্বে সন্ত্রাসী মফিজ ও সবুজ বাহিনী এই চাঁদাবাজি, নির্যাতন করে আসছে। আমরা এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।
মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবি অবিলম্বে মানতে হবে। ইলিশা ও তুলাতলীতে পাইলটের নামে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও হয়রানি বন্ধ না হলে সারা দেশে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তারা সাধারণ জেলেদের অবাধে মৎস্য শিকার নিশ্চিত করা এবং নদীর পয়স্তি জমির মালিকদের জানমালের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।
বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন, ভোলা জেলা শাখার সভাপতি বিল্লাল গোলদারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন-সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, কার্যকরী কমিটির সভাপতি শাহাবুদ্দিন এবং সদস্য ইব্রাহিম মাঝিসহ স্থানীয় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
শ্রমিকরা জানান, অতিদ্রুত তাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে তারা কঠোরতর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
থানা সুত্রে জানা গেছে, চকেট জামালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনসহ-হত্যা,ডাকাতি, চাদাবাজি, জমি দখলের একাধিক মামলা রয়েছে। অজ্ঞাত কারনে ভোলার পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করছেননা।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত চকেট জামালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।