
পটুয়াখালী প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীতে ফুফু বাড়িতে বেড়াতে এসে তামান্না আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার রাতে উপজেলার ৭ নম্বর চরবোরহান ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামান্না আক্তার দশমিনা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলী আকবর চৌকিদারের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তামান্না আক্তার দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা উপজেলার চর মনতাজ ইউনিয়নের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। শুরুতে তামান্নার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নিলেও পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। কয়েকদিন আগে তামান্না
দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নে ফুফু বাড়িতে বেড়াতে যান। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ফুফুর ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি বিষ পান করেন। পরে পরিবারের লোকজন তাকে ডাকতে গেলে ঘরের সামনে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপরে খবর পেয়ে তামান্নার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ দশমিনায় নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের বিষয়ে আলোচনা চলাকালে ছেলের পক্ষ থেকে সোনার গহনা ও একটি মোটরসাইকেল দাবি করা হয়েছিল বলে দাবি করেন। ছেলে পক্ষের দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করেন তামান্নার বাবা। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
নিহত তামান্নার বাবা আলী আকবর চৌকিদার জানান, “ছেলে-মেয়ে দুজন একে অপরকে ভালোবাসত। ছেলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসার পর আমরা তাদের বিয়েতে রাজি হই। ঈদের দুই দিন পর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার কথাও ছিল। শুরুতে কোনো পাওনা চাওয়া হয়নি। তবে কয়েকদিন আগে সোনার গহনা ও অন্যান্য জিনিসপত্রের দাবি করা হয়। আমি বলেছি, এখন আমার পক্ষে তা দেওয়া সম্ভব নয়, কোরবানির ঈদ পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না। আজ শুনলাম আমার মেয়ে ফুফু বাড়িতে বিষ পান করে মারা গেছে।
তবে এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে উল্লেখ করে জানান, বিয়ে সংক্রান্ত দেনা,পাওনা নিয়ে যদি মোবাইল ফোনে কোনো ধরনের হুমকি বা চাপ দিয়ে থাকে কেউ, তবে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এবিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, নিহত তামান্নার ফুফু আমাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তামান্না তরমুজের বিষ পান করে আত্মহত্যার করেন। এবিষয় কোন অভিযোগ না থাকায় মায়না তদন্ত ছাড়াই লাশ নিহতের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।