
জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: ধর্মীয় সম্প্রীতি, মানবিকতা ও সর্বজনীন উন্নয়নের অঙ্গীকার নিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। দুর্গোৎসবের নবমীতে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শন করে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পাঠানো উপহার সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে হস্তান্তর করেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মিঠু পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্তরিক পরিবেশে মতবিনিময় করেন। তিনি তাঁদের খোঁজখবর নেন, পূজার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হন এবং উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দিয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
মন্দিরের উন্নয়ন ও স্থানীয় সমস্যায় গুরুত্ব
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বিভিন্ন মন্দিরের বিদ্যমান সমস্যা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দকে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের সমস্যা ও প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের তালিকা প্রস্তুত করে তাঁর কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশ্বাস দেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজন ও অগ্রাধিকার বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।
চা-শ্রমিকদের দাবি-দাওয়ার প্রতিও নজর
এলাকার চা-শ্রমিকদের জীবনমান, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও বিদ্যমান সমস্যার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন সংসদ সদস্য মিঠু। স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনে সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই হোক উৎসবের মূল শক্তি,শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রেখে উৎসব উদ্যাপনের আহ্বান জানান।
জুড়ী-বড়লেখার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখা এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ আরও সুন্দর হয়ে উঠুক।
স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটি ও মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে পরিদর্শন কার্যক্রমে মন্দিরের উন্নয়ন, চা-শ্রমিকদের সমস্যা এবং শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।