👁 31 Views

সিরাজগঞ্জে  ফুলজোড় নদীর ড্রেজিংয়ের বালুর সাথে কেটে নেওয়া হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন সফলী জমি 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় ফুলজোড় নদী থেকে ড্রেজিংয়ে উত্তোলিত বালু হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে দিনে-রাতে অবাধে ড্রেজার বসিয়ে স্তুুপকৃত বালুর সাথে কেটে নেওয়া হচ্ছে খাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও। যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও জনবল সংকটের দোহাই দিয়ে নিরব রয়েছে প্রশাসন। এদিকে অবৈধ এই বালু ব্যবসার মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি  হয়েছে স্থানীয় বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা।
সরেজমিনে গিয়ে  জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় বালু ব্যবসায়ী ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে জানা যায়, করতোয়া-ইছামতি-ফুলজোড় নদী ড্রেজিং প্রকল্পের আওতায় খনন করা হয় ফুলজোড় নদী। অন্যান্য স্থানের মতই নদী তীরবর্তী হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আলোকদিয়ায় পাশাপাশি দুটি স্থানে খাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে  উত্তোলিত বালু স্তুুপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী স্তুুপাকৃত বালির একাংশ জমির মালিকদের জন্য বরাদ্দ দিয়ে বাকি অংশ নিলামে বিক্রি করা হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিলামে এই বালির মালিকানা লাভ করে বালু ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের মান ইঞ্জিনিয়ারিং। নিলামে বালুর মালিকানা লাভের পর বিক্রি শুরু হলে একটি চক্রের অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল কালাম আজাদের নিলাম বাতিল করার পাশাপাশি ফুলজোড় ডিগ্রি কলেজের সামনে তার উত্তোলিত বালুর স্তুুপও বাজেয়াপ্ত করা হয়। ড্রেজিং ও ড্রেজিংজাত বালু ব্যবস্থাপনায় গঠিত জেলা কমিটির এই সিদ্ধান্ত স্থগিতের দাবি জানিয়ে পরবর্তীতে একটি আবেদনও করেন মান ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক আবুল কালাম আজাদ।
কিন্তু আবুল কালাম আজাদের নিলাম বাতিল করার পর থেকেই অবাধে আলোকদিয়ার ঐ স্তুুপ দুটি থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু কর্তন ও বিক্রি শুরু করে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আব্দুল কাদের জিলানী, আওয়ামীলীগ নেতা, আলোকদিয়া গ্রামের জাকির হোসেনসহ একটি চক্র। জমি ইজারাদার হিসেবে ড্রেংজিয়ের ঐ বালুর একাংশের মালিকানা দাবি করলেও অসাধু এই চক্রটি নিলাম হওয়া বালু খাস জমি ও স্থানীয় কৃষকদের মালিকানাভুক্ত জমিও কর্তন করে নিচ্ছে। শনিবারও দিনভর লোড ড্রেজার, ভলগেট দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ ফুট গভীর করে বালু, জমি কর্তন করতে দেখা যায়।
এদিকে বালুর সাথে কৃষকদের জমি ও খাস জমি কর্তন করে বালু বিক্রিতে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: সামিদুল ইসলাম। এসময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতা-হাতির ঘটনাও ঘটে কয়েক দফা।
এ ঘটনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ-যুবলীগ নেতা-কর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সংঘাতের আশংকা দেখা দিয়েছে।
তবে অবৈধভাবে ও নিয়ম অমান্য করে বালু উত্তোলন বন্ধে দেখা যায়নি কোন প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ  পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো: শাহিন রেজা বলেন, আলোকদিয়া থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।