👁 425 Views

চট্টগ্রামে স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, একটি সমৃদ্ধ, ইনক্লুসিভ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, মন্ত্রী মীর হেলাল

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ মহান স্বাধীনতা দিবসের ভোরে চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ফৌজদারহাটে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে তাঁদের স্মরণ করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যাঁদের আত্মত্যাগে অর্জিত হয়েছে দেশের স্বাধীনতা। তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ ও জনগণকে এগিয়ে নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সকলকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চান এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই।”
এদিকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সন্তানদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি তা রক্ষা করাও বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি স্বনির্ভর ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ—কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, বিপ্লব উদ্যান, বধ্যভূমি ও জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস জানতে পারে।
মেয়র জানান, বিভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকা এসব স্থাপনার কারণে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। তাই কার্যকর সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ ও সালাম গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *