👁 501 Views

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, ঝিনাইদহে ক্ষোভ

মাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ-মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর : ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বর অপসারণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে ভাস্কর্যটির গলায় জুতোর মালা ঝোলানো অবস্থায় দেখা যায়। খবর পেয়ে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে মালাটি অপসারণ করেন। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন এবং ঝিনাইদহ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার উদ্যোগ নেন।
কামালুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি দেখে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ভাস্কর্যে জুতোর মালা ঝোলানো দেখতে পান। পরে সেটি অপসারণ করা হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং থানায় জিডি করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহসহ পুরো দেশের গর্ব। মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করা এই বীরের ভাস্কর্যে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, এর আগেও ভাস্কর্যটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী বারবার ভাস্কর্যটি নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তিনি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু তোয়াব অপু। তিনি বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরিয়ে অবমাননার ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির ঘৃণ্য অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বিকেলে প্রতিবাদ কর্মসূচির আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রাতে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৭ জুলাই কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত চত্বর অপসারণ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা চত্বরটি অপসারণের কাজ শুরু করেছিল। একই সময় ভাস্কর্য নির্মাণের প্রকল্প-সংক্রান্ত মূল ফাইল খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে।
এবার ভাস্কর্যে জুতোর মালা পরানোর ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কে বা কারা রাতের আঁধারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।